সারাদেশে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের মামলায় সোমবার ২৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত।
আদেশে বেশ কয়েকজনকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা করেছে আদালত।
গাজীপুর:
গাজীপুরে যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন সরকারকে হত্যার দায়ে ১১ জনের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. ফজলে এলাহী ভূঁইয়া সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন বিচারক। সর্বোচ্চ সাজার আদেশ পাওয়া ১১ আসামির মধ্যে ছয় জন রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
তারা হলেন- ফরহাদ সরকার, বেলায়েত হোসেন বিল্টু, ফারুক হোসেন, আতাউর রহমান, জয়নাল আবেদীন ও আহমদ আলী।
এছাড়া জজ মিয়া, আলামিন, মাহবুবুর রহমান, আহিম ফকির ও জুয়েল মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
তারা স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৩ সালে বলখেলা বাজার এলাকায় কাপাসিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি জালাল সরকারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে আসামিরা।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৭ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য দিন ঠিক করে দেন।
আদালত পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, দণ্ডিতরা সাত দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম:
সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হোসনে আরা এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরার হলো- নুরুল আলম, আবুল কালাম, মো. কাউসার ও মো. রুবেল। এদের মধ্যে কাউসার ছাড়া বাকিরা পলাতক।
আর যাবজ্জীবন সাজার আদেশে আছে আরিফুল ইসলাম ও এস এম নইমউদ্দিন নামের দুই জনের। তাদের মধ্যে আরিফ পলাতক।
২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের জবানবন্দি শুনে বিচারক সোমবার রায় ঘোষণা করেন বলে এ ট্রাইব্যুনালের পিপি মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৩ মে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকা থেকে আনোয়ারার মোহছেন আউলিয়ার মাজারে যাওয়ার কথা বলে ইউসুফ নামের এক চালাকের অটোরিকশা ভাড়া নেয় আসামিরা। পরে বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডি এলাকায় ইউসুফকে খুন করে লাশ রাস্তায় ফেলে তারা অটোরিকশা নিয়ে চলে যায়।
পরে অটোরিকশার মালিক সাতকানিয়া থেকে তার বাহন উদ্ধার করেন। স্থানীয়রা পাঁচজনকে ধরে পুলিশের সোপর্দ করে।
ইউসুফের খালাতো ভাই হাশেম পরে বোয়ালখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
নারায়ণগঞ্জ:
এছাড়া নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্র সাজেদা হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার চার বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রেজা মো. আলমগীর হাসান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিত রোকন মন্ডল দৌলতপুর উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের হুলি মন্ডলের ছেলে।
আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী মামলার বরাত দিয়ে জানান, ২০১১ সালের ২৬ অগাস্ট রাতে ভ্যানচালক রোকন মন্ডল জুয়া খেলে বাড়ি ফিরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লাইলী খাতুনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে রোকন তার স্ত্রীকে বাড়ির পাশে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ড্রেনে ফেলে দেয়। দুইদিন পর ওই ড্রেন থেকে পুলিশ লাইলীর গলিত লাশ উদ্ধার করে বলে জানান তিনি।
পিপি অনুপ কুমার জানান, নিহতের বাবা লাল চাঁদের দায়ের করা মামলায় পুলিশ রোকনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে রোকন স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে।
নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের স্কুলছাত্র রাকিবুল ইসলাম ইমন হত্যা মামলায় চার জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার নারায়ণগঞ্জের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মিয়াজি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
জেলার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মিয়াজি মোহাম্মদ শহীদ উল ইসলাম এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: সাঈদুর রহমান, শারজাহান জীবন, জামান ও তোফাজ্জল। তাদের মধ্যে জীবন ও জামান রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক রয়েছে।
মামলার আরেক আসামি আলামীন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে কিশোর অপরাধ আইনে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।
উল্লেখ, গত বছরের ২৯ জানুয়ারি নবম শ্রেণীর ছাত্র রাকিবুল হাসান ইমনকে অপহরণ করে তারা। পরে ইমনের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। প্রায় এক মাস পর ইমনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
সিলেট:
শিশু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি
সিলেটে শিশু আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। অপর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়।
সোমবার দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুর রশীদ মাত্র নয় কার্যদিবসে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো: কনস্টেবল এবাদুর রহমান, পুলিশের কথিত সোর্স আতাউর রহমান গেদা ও ওলামা লীগ নেতা নুরুল ইসলাম রাকিব। খালাস পেয়েছে মুহিবুর রহমান মাসুম।
গত ১৭ নভেম্বর চার্জ গঠনের মাধ্যমে শিশু সাঈদ হত্যা মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। মামলায় এ পর্যন্ত ৩৭ জনের মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
গত ১১ মার্চ নগরীর শাহ মীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আবু সাঈদ অপহৃত হয়। অপহরণের তিনদিন পর ১৪ মার্চ নগরীর ঝর্ণার পাড় সুনাতলা এলাকায় পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমান পুতুলের বাসার ছাদের চিলেকোটা থেকে আবু সাঈদের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।