আড়াই বছর পর জেলখানায় জাতীয় ৪ নেতার হত্যা মামলার আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। ২৩৫ পৃষ্ঠার এ রায়ে ওই হত্যাকাণ্ডটি ষড়যন্ত্র ছিল উল্লেখ করে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত দুই আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্ট আইন প্রয়োগে ভুল করে ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
পুর্ণাঙ্গ রায়ের মূল অংশ লেখেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা এবং তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনসহ অন্য চার বিচারপতি তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন।
২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল জেলহত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় বাতিল করে আবুল হাশেম মৃধা ও দফাদার মারফত আলীর বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর রাতের অন্ধকারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় ৪ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে একদল সেনা কর্মকর্তা নৃশংসভাবে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের ২৯ বছর পর ২০০৪ সালে বিচারিক আদালত রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার আবুল হাশেম মৃধার মৃত্যুদণ্ড ও ১২ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
এরপর ২০০৮ সালে হাইকোর্ট শুধুমাত্র মোসলেহ উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ২ জনকে খালাস দেয়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে ৪ জনকে অব্যাহতিও দেয় হাইকোর্ট।
হত্যাকাণ্ডটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আমলে না নেয়ায়, ন্যায় বিচার পাওয়া যায়নি বলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল জেলহত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় বাতিল করে আবুল হাশেম মৃধা ও দফাদার মারফত আলীর বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ।
আড়াই বছরের বেশি সময় পর মঙ্গলবার এ হত্যা মামলার ২৩৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়:
কোনো মানুষ আদালতের ভুলের কারণে কষ্ট ভোগ করতে পারে না।
এ মামলায় পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে যে রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে আবুল হাশেম মৃধা ও দফাদার মারফত আলীও কারাগারে ঢুকে ছিলেন। তারা সেখানে আওয়ামী লীগের ৪ নেতাকে হত্যা করেছিলেন। হাইকোর্ট এ দুই অভিযুক্তকে নির্দোষ দেখিয়ে ভুল এবং অবিচার করেছে।
ফৌজদারি ষড়যন্ত্রে বিচারিক আদালত সব অভিযুক্তকে খালাস দিয়েছে। বিধান অনুসারে এ রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়ার আবেদন করার অধিকার থাকলেও সংক্ষুদ্ধ কোন পক্ষই অর্থাৎ রাষ্ট্র ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা কেউ তা করেননি।
চার নেতার এ হত্যাকাণ্ডটি ছিলো উদ্দেশ্যে প্রণোদিত এবং ষড়যন্ত্রমূলক যা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।