বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ২১ ডিসেম্বর এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশিবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার ৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ দিন ধার্য করেন।
এর আগে সকালে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
এ সময় আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে অনুপস্থিতির জন্য আবেদন জানান। আদালত খালেদার অনুপস্থিতির আবেদন মঞ্জুর করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাক্ষীর জেরা ও নতুন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের আদেশ দেয়।
খালেদা জিয়ার পক্ষে জেরা করছেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান। মামলাটির ২৬তম সাক্ষী দুদকের সহকারী পরিচালক নাজমুল আহসানকে জেরা শুরু করেছেন।
আদালতে সাক্ষ্য দিতে আরো ৫ জন সাক্ষীকে হাজির করেছে দুদক।
তারা হলেন: সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ডিজিএম আব্দুল গফুর, এজিএম মো. হারুন অর রশীদ, মিরপুর শিল্প এলাকা শাখার ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ ফকির, ব্যাংকের জিএম আমিন উদ্দিন আহমেদ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুনার রশিদ।
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি ৪ জন।
খালেদা ছাড়া অভিযুক্ত অপর ৩ আসামি হলেন: খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
জামিনে থাকা জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।
অন্যদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ বিধিসম্মত বলে দেয়া হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল বিচারাধীন থাকার কথা উল্লেখ করে এ মামলার জেরা-সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাতে সময়ের আবেদন করেন একই আইনজীবী। এ আবেদনটি মঞ্জুর করে তা মুলতবি রেখেছে আদালত।
উল্লেখ, ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
দুই মামলারই বাদী হলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ খান।
গত ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ খান।
গত বছরের ১৯ মার্চ এ দুই দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ঢাকা তৃতীয় ও বিশেষ জজ আদালতের আগের বিচারক বাসুদেব রায়।
খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করা হয় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর আট আসামির বিরুদ্ধেও।