মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার বাগেরহাটের বন কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী ওরফে এ কে এম ইউসুফ আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার সকালে বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দিয়েছে।
প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী জানান, এ মামলার তদন্তের অগ্রগতির প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছে।
যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি মো. ইউসুফ আলী শরণখোলা রেঞ্জের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা। তিনি জামালপুরের চাঁনপুর হরিণাকান্দা গ্রামের আব্দুল খালেক ওরফে খালেক মাস্টারের ছেলে। গত ৯ ডিসেম্বর গভীর রাতে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের দুবলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যা ব।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় আল বদর বাহিনীতে ছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর হায়দার আলী বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউসুফকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে তদন্ত সংস্থা। শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
ইউসুফের পক্ষে আদালতে কোনো জামিনের আবেদন ছিল না। শুনানিতে প্রসিকিউটর হায়দারের সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সৈয়দ সায়েদুল হকসহ অনেকে।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি মো. রুহুল আমিন জানান, ইউসুফ আলম মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্র ছিলেন। ওইসময়ে তিনি আলবদর বাহিনীতে যোগ দিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার সুবর্ণখিলা এলাকায় গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন চালায়।
গত ১ এপ্রিল ইউসুফসহ জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলার আট জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের এ মামলা করা হয়। ইউসুফের বড়ভাই এ বিএম ইউনুস আলীও (৬৫) একই মামলার আসামি।
গত ৯ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল এ আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
পরোয়ানা জারির পর থেকেই ইউসুফ আত্মগোপনে ছিলেন। পরে র্যা বের সহায়তায় ওই দিন রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ইউসুফ আলম ১৯৭৯ সালের ৯ আগস্ট বন বিভাগে ফরেস্টার পদে যোগ দেন। ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার হন তিনি।
কিছুদিন আগে পদোন্নতি পেয়ে শরণখোলার স্টেশন কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধ মামলার এ আসামি।