সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত। সোমবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমিন এ অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক ২৪ আসামিকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৭ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছে আদালত।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওই দিন পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আট তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে ১১৩৫ জন পোশাক শ্রমিক মারা যান।
আহত হন হাজারের বেশি শ্রমিক, যারা ওই ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনায় প্রথমে ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগে ভবনমালিক সোহেল রানাসহ ২১ জনকে আসামি করে সাভার থানায় মামলা করে পুলিশ। পরে অভিযোগপত্রে এটাকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’র মামলা হিসেবে দেখানো হয়।
এছাড়া ইমারতবিধি লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে রানাসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অন্য মামলাটি হয় যার তদন্তে ভবনের নকশায় ত্রুটি, অনুমোদন না নিয়ে উপরের দিকে সম্প্রসারণ এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের তথ্য আসে।
গত ৭ আগস্ট এ মামলায় ইমারত নির্মাণ আইনে করা মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
গত ১ জুন দুটি মামলাতেই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ( সিআইডি) সহকারী সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে ৪১ জনকে আসামি করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত মৃত্যু ঘটানোসহ দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২৬, ৩২৫, ৩৩৭, ৩৩৮, ৪২৭, ৪৬৫, ৪৭১, ২১২, ১১৪, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। যেগুলোর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
এ মামলায় কারাগারে রয়েছেন সোহেল রানা ও তার মা মর্জিনা বেগম আর জামিনে রয়েছেন ১৬ জন, পলাতক ২৩ জন।
আর ১৯৫২ সালের ইমারত নির্মাণ আইনের মামলায় ১৮ আসামির মধ্যে পলাতক আছেন ছয় জন।
রানা, তার মা ও বাবা আবদুল খালেক ওরফে কুলু খালেকসহ ১৭ জন দুই মামলাতেই আসামি হওয়ায় দুই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ জন।
হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে রাষ্ট্রপক্ষে ৫৯৪ জন এবং ইমারত বিধির মামলায় ১৩০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ধসে পড়ে রানা প্লাজা। এতে ১১৩৫ বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারীকর্মী।