এ বছরের আলোচিত তিন হত্যা মামলার আপিল নিষ্পত্তিতে আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের পেপারবুক (নিম্ন আদালতের রায়সহ মামলার বৃত্তান্ত) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এরমধ্যে সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন ও খুলনার শিশু রাকিব হাওলাদার হত্যা মামলার পেপারবুক চূড়ান্ত করে সরকারি ছাপাখানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
আর পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলার আসামি তাদের মেয়ে ঐশী রহমানের পেপারবুক প্রস্তুতের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। জানুয়ারির মধ্যেই এটি চূড়ান্ত করে ছাপাখানায় পাঠানো হবে।
হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে যা ‘ডেথ রেফারেন্স মামলা’ হিসেবে পরিচিত।
এসব মামলার পেপারবুকে এজাহার, অভিযোগপত্র, জব্দ তালিকা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরার বিবরণ এবং নিম্ন আদালতের রায় পর্যায়ক্রমে সাজানো থাকে।
পেপারবুক প্রস্তুতের পর নির্ধারিত দিনে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন ও আসামিদের আপিল (যদি করে) শুনানি শুরু হয়— সাধারণত ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি একসঙ্গে হয়।
অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ জানান পেপারবুক প্রস্তুতের পর প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিলে আলোচিত এ মামলাগুলোর শুনানি শুরু হবে বলে হাইকোর্ট বিভাগের।
তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির নির্দেশেই দ্রুত এ তিন মামলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
এর আগে সৌদী দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ আল আলী এবং পিলখানা হত্যা মামলার আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের পেপারবুক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হয়। এ বছর ১৮ জানুয়ারি থেকে মামলাগুলোর ডেথরেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়েছে।
গত ৮ নভেম্বর, একই দিনে আলোচিত রাজন ও রাকিব হত্যা মামলার রায় দেয়া হয়।
সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অপবাদে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে চার জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালত। এছাড়া একজনের যাবজ্জীবনসহ পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
এদিকে, খুলনার মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক দিলরুবা সুলতানা ১২ বছরের রাকিবকে হত্যার দায়ে দুই জনের ফাঁসির আদেশ দেন। খালাস পান এক আসামি।
এ দুই মামলায় ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়ে বিচারিক আদালতের দেয়া রায়সহ মামলার নথি ১০ নভেম্বর হাইকোর্টে পৌঁছায়। ওই দিনই হাইকোর্টের ডেথরেফারেন্স শাখা তা নথিভুক্ত করে।
গত ১২ নভেম্বর রাজধানীতে বাবা-মাকে হত্যার দায়ে ঐশী রহমানের ফাঁসির রায় দেয় আদালত। এক সপ্তাহের মাথায় এ মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পৌঁছায় এবং ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখার কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩০০ ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
মোট তিনটি নিয়মিত বেঞ্চে এসব ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয়–এছাড়া আরো দুটি বেঞ্চ রয়েছে, যেগুলো শুধু বৃহস্পতিবার শুনানি করে।
সুপ্রিম কোর্টে এখন শীতকালীন অবকাশ চলছে। ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ অবকাশ শেষে আগামী ৩ জানুয়ারি আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে।