মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল আদালতে মানহানি মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নড়াইল সদর আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন জেলার কালিয়া উপজেলার চাপাইল গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. রায়হান ফারুকী ইমাম।
জুডিশিয়াল তদন্তের মাধ্যমে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন বিচারক।
গতকাল মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উকিল নোটিস পাঠান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী।
খালেদা জিয়ার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহী ও সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
এ বিষয়ে মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী জানান, খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাকে এ নোটিস দেয়া হয়েছে।
তার এ বক্তব্য দেশদ্রোহী মনোভাব পাওয়া যাচ্ছে—নোটিসে সাত দিনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে আর তিনি যদি এটা না করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান মমতাজ উদ্দিন।
মমতাজ উদ্দিন আরো বলেন, খালেদা জিয়ার গুলশান বাসভবন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টন ঠিকানায় রেজিস্ট্রি করে ডাকযোগে এ নোটিস পাঠানো হয়।
এদিকে, রাজধানীতে এক আলোচনায় খালেদা জিয়ার এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে যুক্তি উপস্থাপন করতে না পারলে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের এ নেতা।
রাজধানীর অপর অনুষ্ঠানে নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জন্য আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
গত সোমবার রাজধানীতে দলীয় সমর্থিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয়েছেন বলা হয় তবে প্রকৃতপক্ষে কতজন শহীদ হয়েছেন, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।