ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার রায় ৩১ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) ধার্য করেছে আদালত।
সোমবার মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ এ দিন ধার্য করেন।
মামলাটিতে ৫৫ জন সাক্ষীর মধ্যে রাজীবের ছোট ভাই স্থপতি নেওয়াজ মর্তুজা হায়দারসহ ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হল: আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন রাহমানি, ঢাকার খিলক্ষেত চৌধুরীপাড়ার মো. ফয়সাল বিন নাঈম দীপ, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পোড়াপাড়া গ্রামের মো. এহসান রেজা রুম্মান, ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থানার ধলেশ্বর গ্রামের মাকসুদুল হাসান অনিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কলেজপাড়ার নাঈম ইরাদ, চট্টগ্রাম জেলার সন্দীপ উপজেলার হারামিয়া গ্রামের নাফিজ ইমতিয়াজ, ঢাকার কলাবাগান থানার ভুতের গলির সাদমান ইয়াছির মাহমুদ ও ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার জয়লস্করের রেদোয়ানুল আজাদ রানা।
জসীমউদ্দিন রাহমানি ছাড়া সবাই নর্থ সাউথের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের ছাত্র ছিল। পলাতক রানাকে রাজীব হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফেরার পথে গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক রাজীব হায়দার শোভনকে পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে অজ্ঞাত আততায়ীরা কুপিয়ে হত্যা করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘থাবাবাবা’ নামে একটি ব্লগে তিনি লেখালেখি করতেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা রাজধানীর পল্লবী থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ধর্মীয় উগ্রবাদীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে।
চলতি বছরের ১৮ মার্চ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন রাহমানি এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ৭ ছাত্রসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আদালত। মামলার প্রধান আসামি রেদোয়ানুল আজাদ রানা ছাড়া সবাই কারাগারে আছে।