মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামাত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের পুর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ৬১৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ওই রায়ে স্বাক্ষর করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেনসহ আপিল বিভাগের রায় প্রদানকারী ৫ বিচারপতি।
২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন। এর ১৫ মাস পর আপিল বিভাগের সেই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হলো আজ।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয়া হয়।
সাঈদীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৩ হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, ৯ জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করার মত ২০টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিলো ট্রাইব্যুনালে।
এরমধ্যে ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণের ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে ৮ ও ১০নং অভিযোগে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রমাণিত অন্য ৬টি অর্থাৎ ৬, ৭, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯নং অভিযোগে আলাদাভাবে কোনো সাজা দেননি ট্রাইব্যুনাল।
আর সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে ৫টি অভিযোগ। এরমধ্যে ২টিতে অর্থাৎ ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু, একটিতে অর্থাৎ ১০ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন, একটিতে অর্থাৎ ৮ নম্বর অভিযোগে ১২ বছর ও একটিতে অর্থাৎ ৭ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয় সাঈদীকে।
এছাড়া ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত ৬, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ আপিল বিভাগের রায়ে প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে খালাস পায় সাঈদী।