মুক্তিযুদ্ধের সময় আল বদর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে—জানিয়েছেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
বুধবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে নিজামীর ফাঁসি রায় বহালে পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাইব্যুনালে বিচারের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশও করে খন্দকার মাহবুব দাবি করেন, সেফহোমে রেখে দিনের পর দিন এসব সাক্ষীদের শিখিয়ে-পড়িয়ে ট্রাইব্যুনালে নেয়া হয়েছে। সাক্ষীরা শেখানো সাক্ষ্য দিতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না রিভিউ করা হবে কি-না। নিজামী হয়তো মনে করতে পারেন, রিভিউয়ে ন্যায়বিচার পাবেন না। আগে যারা রিভিউ করেছিলেন, তারা যেহেতু ন্যায়বিচার পাননি সেজন্য তিনিও রিভিউ নাও করতে পারেন।
আপিল বিভাগ তিনটি অভিযোগে নিজামীর ফাঁসি বহাল রেখেছে। দুটি অভিযোগে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। ফাঁসির সাজার একটি অভিযোগসহ তিনটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ, মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা বাস্তবায়নকারী গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীর প্রধান নিজামীকে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
ট্রাইব্যুনালে নিজামীর বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যাসহ চারটি অভিযোগে (২, ৪, ৬ ও ১৬) নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতা করার চারটি অভিযোগে (১, ৩, ৭ ও ৮) তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাকি আটটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সেগুলো থেকে তাকে খালাস দেয় ট্রাইব্যুনাল।