আদালত

কাজী আরেফ হত্যাকাণ্ড: ৩ জনের ফাঁসি রাতে কার্যকর হচ্ছে

কাজী আরেফ আহমেদ
কাজী আরেফ আহমেদ

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী আরেফ আহমেদসহ দলের পাঁচ নেতা হত্যা মামলায় তিন আসামির ফাঁসি আজ- শুক্রবার রাতে কার্যকর হতে যাচ্ছে।

এজন্য ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে—জানান যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক শাহজাহান আহমদ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এ ফাঁসি কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে— হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া নয় জনের মধ্যে পাঁচ জন পলাতক রয়েছেন। একজন কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন।

যে তিন জনের ফাঁসি কার্যকর হতে যাচ্ছে তারা হলেন: কুষ্টিয়ার মিরপুরের রাজনগর গ্রামের হাবিবুর রহমান, কুর্শা গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও রাশেদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, যেকোনো সময় ফাঁসি কার্যকর করা হবে— ওই তিনজনের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হয়েছে।

মিরপুর থানার ওসি কাজী জালাল উদ্দীন জানান, কাল শুক্রবার সকাল ৭টায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিন জনের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত হয়ে তাদের ওই তিন স্বজনের মরদেহ গ্রহণ করতে বলেছে যশোর কারা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ফাঁসি কার্যকর হতে যাওয়ার খবরে খুশি নিহত নেতাদের পরিবার ও জাসদের নেতা-কর্মীরা। জাসদের নিহত নেতা এয়াকুব আলীর ছেলে ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমার বাবাসহ যারা সেদিন নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছিলেন তাদের খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হবে জানতে পেরে আমরা খুব খুশি। ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশা করছি।

তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাবিবুর রহমানের ভাই হাসিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তার ভাই দিনমজুর ছিলেন। হত্যার ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন না—দারিদ্র্যের কারণে ভাইয়ের পক্ষে তারা কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি রাশেদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন।

বিগত ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসবিরোধী এক জনসভা চলছিল। এ সময় একদল সন্ত্রাসী গুলি চালালে ঘটনাস্থলে নিহত হন কাজী আরেফ আহমেদ, তৎকালীন জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরায়েল হোসেন ও শমসের মণ্ডল। ওই দিনই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের সাড়ে পাঁচ বছর পর ২০০৪ সালের ৩০ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১০ আসামির ফাঁসি ও ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল করলে ২০০৮ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্ট নয় জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে, একজনকে খালাস দেয় ও ১২ জনের সাজা মওকুফ করেন। এরপর এ রায়ের বিরুদ্ধে ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিদের দুজন রাশেদুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। পরে ২০১১ সালের ৭ আগস্ট ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া নয় জনের সাজা বহাল রাখে আদালত। ওই নয় জনের মধ্যে পাঁচ জন পলাতক। একজন কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। এখন বাকি তিন জনের ফাঁসি কার্যকর হতে যাচ্ছে।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

আল আমিনের তালাক: সন্তান নিয়ে আদালতে স্ত্রী

অস্ত্র মামলা: জি কে শামীমসহ ৮ জনের যাবজ্জীবন

আবেদন করলে খালেদা জিয়ার আবারো মুক্তির মেয়াদ বাড়বে: আইনমন্ত্রী

রুবেল-বরকতের অর্থপাচার মামলা ফের তদন্তের নির্দেশ আদালতের

জাহালমকে পাঁচ লাখ টাকা দিলো ব্র্যাক ব্যাংক

৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ বাতিল

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতি বাতিলের রায় স্থগিত

ডেসটিনির চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদের জামিন

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ