মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কিশোরগঞ্জের নিকলি থানার সৈয়দ মো. হোসাইন ও মোসলেম প্রধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘনসহ ৬টি অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি এম আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে প্রসিকিউশনের দাখিল করা এসব অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।
গতবছরের ৭ অক্টোবর দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
গত ৩ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ এ দুই জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন।
ও্ইদিন অভিযোগপত্র দাখিলের পর ড. তুরিন আফরোজ বলেন, হুসাইন ও মোসলেমের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, লুন্ঠন, অপহরণ ও নির্যাতনসহ ৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৬২টি জনকে হত্যা, ১১জনকে অপহরণ ও আটক এবং ২৫০টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত বছরের ৮ জুলাই কিশোরগঞ্জের নিকলির কামারহাটি গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মোসলেম প্রধানকে। সৈয়দ মো. হোসাইন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় পলাতক। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় নিকলি থানার রাজাকার কমান্ডার ছিল।
হুসাইন ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তারাইলের পলাতক রাজাকার সৈয়দ মো.হাসান ওরফে হাছেন আলীর ছোট ভাই। হাসান আলীকে গত ৯ জুন ফাঁসিতে অথবা গুলি করে হত্যার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেয় তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল-১।
হুসাইনের বাবা সৈয়দ মুছলেহউদ্দিন একাত্তরে কিশোরগঞ্জ মহকুমার পিডিপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং শান্তি কমিটির সভাপতি ছিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হরি দেবনাথ ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে তদন্ত করে এসব অভিযোগ আনেন। দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে ৪০ জন সাক্ষ্য দেবেন বলেও জানান তুরিন আফরোজ।