পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারণায় সাংসদদের অংশ নেয়া সংক্রান্ত বিধানটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে।
সোমবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর ও বিচারপতি এ কে এম শাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দিয়েছে।
আদালত সূত্র জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচনের বিধিমালার ২ (১২) ও ২২ ধারা অনুসারে পৌরসভা নির্বাচনী প্রচারণায় সাংসদেরা অংশ নিতে পারেন না।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন এমপি আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল শশাঙ্ক খের সরকার।
রুলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিবসহ বিবাদীদের তিন সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিধান চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ কে এম নূরুন্নবী একটি রিট আবেদন করেন।
রিট দায়ের প্রসঙ্গে একেএম নুর নবী সাংবাদিকদের বলেন, পৌরসভা নির্বাচন বিধিমালা ২০০৯ অনুসারে আগে সাংসদরা পৌর নির্বাচনে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু গতবছর পৌরসভা নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করে সাংসদদের ওই সুযোগ রহিত করা হয়েছে।
তিনি সাংবাদিককদের আরো বলেন, বিধিমালায় আচরণবিধির ২ এর উপবিধি ১২ ও ২২ অনুসারে সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সাংসদদের রাখা হয়েছে। ফলে তারা নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। কারণ উপ-বিধি অনুসারে এটি লাভজনক পদ। অথচ সংবিধানের ৬৮ ও ১৫২ অনুসারে সাংসদরা সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন তারা শুধু সম্মানী ভাতা পান। এ কারণে হাইকোর্ট রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছে।
প্রসঙ্গত: গত ২৩ নভেম্বর পৌরসভা (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা সংশোধন করে বিধি-২ এর উপবিধি ১২ ও উপবিধি ২২ যুক্ত করে সাংসদদের নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।