বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা করলে তা গ্রহণে মোহাম্মদপুর থানা বা সিএমএম আদালতকে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
এর আগে ১৮ জানুয়ারি মোহাম্মদপুর থানার সাময়িক বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ শিকদারের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
ওইদিন বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর ও এ কে এম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
ওই আদেশে বলা হয়, ১১ জানুয়ারি পুলিশের কাছে রাব্বী যে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন সেটিকে মামলার এজাহার হিসেবেগ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া গোলাম রাব্বীকে আটক করে হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে দুই সপ্তাহের রুলও জারি করেছে আদালত।
এর আগে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছিল।
আবেদনে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাসুদ শিকদারকে গ্রেপ্তার, রাব্বীর লিখিত অভিযোগ এজাহার হিসেবে গণ্য করা এবং তাকে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
পরে এ আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত গত ২১ জানুয়ারি মামলা নিতে হাইকোর্টের আদেশ ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করে ওইদিন শুনানির জন্য আবেদনটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি এসআই মাসুদের বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
গত ১৭ জানুয়ারি নির্যাতনের ঘটনায় তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন ঘটনার দিন রাব্বীকে উদ্ধারকারী তার বন্ধু সাংবাদিক জাহিদ হাসান এবং দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান ও এস এম জুলফিকার আলী জুনু।
রিট আবেদনে গোলাম রাব্বীকে নির্যাতন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রাব্বীর অভিযোগ এজাহার হিসেবে কেন নেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না এবং এসআই মাসুদ সিকদারকে কেন গ্রেপ্তার করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়।
একইসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা জজের নিচে নয় এমন সমমানের একজন বিচারককে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে তাও জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়।
রিটে বিবাদী করা হয় স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, তেজগাঁও জোনের উপ-কমিশনার, মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাসুদ সিকদার ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
উল্লেখ, ৯ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক গোলাম রাব্বীকে আটক করেন মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ শিকদারসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। ইয়াবা ব্যবসায়ী-সেবনকারী বানানোর ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন তারা। এরপর রাত ৩টা পর্যন্ত তাকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে বেড়ান এবং মারধর করেন। এমনকি তাকে বেড়িবাঁধে নিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকিও দেন।
পরদিন সকালে এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন রাব্বী।
ব্যাংক কর্মকর্তা রাব্বীকে এসআই মাসুদের নির্যাতন এবং যাত্রাবাড়ীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিদর্শককে ওই থানা পুলিশের মারধরের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুন অর-রশিদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দপ্তর।
গোলাম রাব্বীকে নির্যাতনের ঘটনা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এসআই মাসুদকে গত ১৬ জানুয়ারি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে ১১ জানুয়ারি সকালে তাকে মোহাম্মদপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।