মুক্তিযুদ্ধের সময মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেত্রকোনার রাজাকার কমান্ডার ওবায়দুল হক তাহের ও রাজাকার আতাউর রহমান ননীর ফাঁসির রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মঙ্গলবার বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা দেয়।
তাদের বিরুদ্ধে আনা ৬টি অভিযোগের মধ্যে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং হত্যার অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কিংবা ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে বলেও ট্রাইব্যুনালের আদেশ বলা হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা একটি মীমাংসিত বিষয়- এ নিয়ে বিতর্ক করার কিছু নেই।
সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে এজলাসে আসেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারক। সাড়ে ১০টায় নেত্রকোনার তাহের ও ননীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ২৬৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের সংক্ষিপ্তসার পড়া শুরু হয়। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর প্রথম রায়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে একাত্তরে ৯ অক্টোবর নেত্রকোনার বারহাট্টা থানার লাউফা গ্রাম থেকে মশরফ আলী তালুকদারসহ ১০ জনকে অপহরণ করে ঠাকুরাকোনা সেতুতে ৭ জনকে গুলি করে হত্যা ও ১৫ নভেম্বর বিরামপুর বাজার থেকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বদিউজ্জামান মুক্তসহ ৬ জনকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। প্রমাণিত না হওয়ায় ৪ও ৬ নম্বর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় দু'জনকে।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা একটি মীমাংসিত বিষয়- এ নিয়ে বিতর্ক করার কিছু নেই বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এ এইচ তামীম।
এদিকে, নেত্রকোনার দুই রাজাকার তাহের ও ননীর ফাঁসির রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। রায় ঘোষণার পর মঙ্গলবার দুপুরে নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টাসহ বিভিন্ন এলাকায় একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ মিছিল করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারসহ সর্বস্তরের মানুষ। দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি তাদের।
মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোনা জেলা সদর ও বারহাট্টা থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননী কুখ্যাত রাজাকার হিসাবে পরিচিত ছিলেন। মুক্তযুদ্ধের সময় হত্যা, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ,লুট, আটক ও নির্যাতনের ৬টি মানবতা বিরোধী অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। তাদের ফাঁসি রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
রায় ঘোষণার পরপরই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে নেত্রকোনা শহরে বের হয় আনন্দ মিছিল। এতে সর্বস্তরের মানুষ যোগ দেন।
এ সময় তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান। একে অপরকে মিষ্টি মুখ করান।