ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যা মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের দিন ঠিক করার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
মামলাটির আসামি ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেলকে দেয়া হাইকোর্টের জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়া হয়।
আদেলের জামিন স্থগিত করে দেয়া চেম্বার বিচারপতির আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ— একইসঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না করা গেলে আদেলের জামিনের আবেদন বিবেচনা করতে বলেছে বিচারিক আদালতকে।
আদালতে জাহাঙ্গীর কবির আদেলের পক্ষে শুনানি করেন আবদুল বাসেদ মজুমদার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খন্দকার দিলিরুজ্জামান।
খন্দকার দিলিরুজ্জামান বলেন, গতবছর ১৬ নভেম্বর আদেলকে জামিন দেয় হাইকোর্ট।
রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।
ফেনী জেলা দায়রা জজ দেওয়ান মোহাম্মদ সফিউল্লাহ’র আদালতে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
উল্লেখ , ২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমি সড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে একরামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে তার মরদেহসহ তাকে বহনকারী মাইক্রোবাসটি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক ও বিএনপি নেতা মাহাতাব উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী মিনারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন।
গতবছর ১৩ অক্টোবর বিএনপি নেতা মিনার চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় ফেনী পুলিশ। ১৭ নভেম্বর অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচার কাজ শুরুর আদেশ দেন ফেনী জেলা দায়রা জজ দেওয়ান মো. শফিউল্লাহর আদালত।
পুলিশ ও র্যা ব এ পর্যন্ত প্রধান আসামি বিএনপি নেতা মিনার চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলার শিবলু, যুবলীগ নেতা মিস্টার, জিহাদ ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর মামাতো ভাই আবিদসহ ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।