প্রধান বিচারপতি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন—এ মন্তব্য করে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামছুদ্দিন চৌধুরী।
সোমবার বিকেলে অবসরে যাওয়ার পর লেখা রায় ও আদেশ আপিল বিভাগে জমা দেয়ার আগে সাংবাদিকদের সামনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় প্রধান বিচারপতি বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসময় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা রায় লিখতে পারবেন না সাম্প্রতি প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন প্রধান বিচারপতি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এজেন্ডা চরিতার্থ করার কাজ করছেন।
পরে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী অবসরের পর লেখা রায় ও আদেশের ৬৫টি মামলার ফাইল জমা দেন।
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর কাছে তিনি ফাইলগুলো জমা দেয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের মাজারগেটে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অবসরে যাওয়ার পর তার লেখা রায় ও আদেশের ৬৫টি মামলার ফাইল তিনি বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর কাছে জমা দিয়েছেন।
এ সময় তিনি বলেন, আরো কিছু মামলার ফাইল তার কাছে রয়েছে 'আগামী দু'-চার দিনের মধ্যে এগুলোও জমা দিয়ে দেবেন।
শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন তিনি তার কাছে থাকা মামলার নথি ফেরত দেবেন না—নথি ফেরত চেয়ে প্রধান বিচারপতির দেয়া আদেশ ‘অবৈধ’।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা তার হাতে লেখা রায় ও আদেশগুলো গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছেন। এজন্য তিনি বেঞ্চের আরেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর কাছে তার লেখা রায় ও আপিলগুলো জমা দিতে যাচ্ছেন। তবে কিছুতেই তিনি মামলার নথি ফেরত দেবেন না।
বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীকে গণমাধ্যমে কথা না বলে তার কাছে থাকা মামলার নথিগুলো দ্রুত ফেরত দিতে বলেন প্রধান বিচারপতি।
গতকাল সকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি যেসব রায় ও আদেশ লেখা শেষ করেছেন, সেগুলো জমা দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি সেগুলো গ্রহণের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।
পরে বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাকে সব ফাইল ফেরত দিতে বলেন।
আজ-সোমবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিচার চলাকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন করাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করা হয়।
সর্বোচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি আশা করেন, বর্তমান ও ভবিষ্যতে বিচারপতিরা কোর্টের পবিত্রতা ও মর্যাদা বজায় রাখতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবেন।