বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অপরাধে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (আইসিটি) ৫৭ ধারায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার মহানগর হাকিম ফরিদ আলমের আদালতে মামলা দু’টি দায়ের করা হয়— মামলা দুইটি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছে আদালত।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। আর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একেএম বেলায়েত হোসেন রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় দায়ের হওয়া মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে— আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে পরে এ ব্যাপারে আদেশ দেবে আদালত।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রনি কুমার বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি বিকৃতির অপরাধে এম এ লতিফের বিরুদ্ধে ১২৪/এ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে— আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে পরে এ ব্যাপারে আদেশ দেবে আদালত।
এর আগে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অপরাধে লতিফের বিরুদ্ধে আরো দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে।
প্রসঙ্গত: ৪ ফেব্রুয়ারি এক হাজার কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে এম এ লতিফের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে উপ-কমিশনার পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তা দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
একইদিন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রহিম জিল্লু বাদি হয়ে লতিফের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গত ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-১১ আসনের (বন্দর, হালিশহর ও পতেঙ্গা) সাংসদ এম এ লতিফ বন্দরনগরীর বিভিন্ন স্থানে ফেস্টুন লাগিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির মুখমণ্ডলের সঙ্গে লতিফের নিজের শরীর জুড়ে দিয়ে তৈরি করা হয় ফেস্টুনগুলো।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে লতিফ সংবাদ সম্মেলন করে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির কথা স্বীকার করলেও দায় চাপিয়েছেন ডিজাইনারের উপর।