বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এএইচএম কিবরিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন ৫ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও এ এম আমিন উদ্দিন।
গত ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার রায়ে ৮ জনকে ফাঁসি ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এ মামলায় হাইকোর্ট কিবরিয়াকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি জামিন দেয়। জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বারে আবেদন করলে ১৪ ফেব্রুয়ারি জামিন স্থগিত করে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়।
আজ- বহৃস্পতিবার আপিল বিভাগ চেম্বার বিচারপতির দেয়া স্থগিতাদেশ বহাল রাখে।
উল্লেখ, ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মীরা নির্মমভাবে পেটায় ও কোপান। বাঁচার জন্য দৌঁড় দিলে তিনি শাঁখারীবাজারের রাস্তার মুখে পড়ে যান। রিকশাচালক রিপন তাকে রিকশায় তুলে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক বিশ্বজিৎকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় বিশ্বজিৎ লক্ষ্মীবাজারের বাসা থেকে শাঁখারীবাজারে নিজের দর্জি দোকানে যাচ্ছিলেন। হত্যার ঘটনায় ওই রাতে সূত্রাপুর থানায় মামলা করে পুলিশ। পরদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়। এরপর সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়।