নির্বাচন কমিশনে (ইসি) রাজনৈতিক দলের বিষয়ে তথ্য চাইলে নাগরিকদের সেই তথ্য দিতে কমিশন বাধ্য থাকবে–বৃহস্পতিবার এ রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় দিয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভুইয়া ও ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।
তথ্য জানার বিষয়ে সুশাসেনের জন্য নাগরিক নামে (সুজনের) একটি বেসরকারি সংগঠনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদসহ পাঁচ জন আদালতে এ-সংক্রান্ত রিট আবেদন করেন।
তাদের এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করে, সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত আজ-এ রায় দিয়েছে।
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী শরিফ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন কমিশনে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালের জুন মাসে বদিউল আলম মজুমদার তথ্য অধিকার আইনের আওতায় নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের হিসাবের তথ্য জানতে চান।
নির্বাচন কমিশন ওই সময় জানায়, রাজনৈতিক দলের অনুমতি ছাড়া এ হিসাব দেয়া যাবে না—এরপর তিনি কয়েক দফায় নির্বাচন কমিশন ও তথ্য কমিশনের কাছে এ-সংক্রান্ত আবেদন করেন তবে প্রতিবারই তার আবেদন নাকচ করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নিবন্ধন বিধিমালা অনুসারে রাজনৈতিক দলগুলো বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করে থাকে। এই হিসাবের প্রতিবেদন চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন।
কমিশন রাজনৈতিক দলের সম্মতি ছাড়া আয়-ব্যয়ের হিসাবের অনুলিপি দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে তিনি তথ্য কমিশনে অভিযোগ দাখিল করেন। এ নিয়ে একাধিবার নির্বাচন কমিশন ও তথ্য কমিশনে আবেদন করলেও তা নাকচ করা হয়।
তৃতীয় বারের মতো বিফল হয়ে ২০১৪ সালে ১ জুন তথ্য কমিশনে অভিযোগ করেন বদিউল আলম মজুমদার।
তবে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে জানিয়ে ওই বছরের ১৬ জুলাই তথ্য কমিশন জানায়, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ৯ (৮) অনুসারে তৃতীয় পক্ষের (রাজনৈতিক দল) কোনো গোপনীয় তথ্য তার মতামত ও সম্মতি ছাড়া অনুরোধকারীকে (আবেদনকারী) প্রদান না করার বিধান রয়েছে।
এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বদিউল আলম মজুমদার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান, এ এস এম শাহজাহান, কলামনিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দেয়।
রুলে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর দাখিল করা বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব সংক্রান্ত প্রতিবেদন তাদের সম্মতি ছাড়া প্রদান না করার সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ব-বহির্ভূত বলে ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।
চার সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ও তথ্য কমিশনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রুল মঞ্জুর (অ্যাবসিলিউট) করে রায় ঘোষণা করে।
এ রায়কে ‘যুগান্তকারী’ অভিহিত করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এর ফলে নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো। সংবাদকর্মী ও নাগরিকদের জন্য তথ্যপ্রবাহ উন্মুক্ত হল।