সন্ত্রাস দমন আইনে করা দুই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন জামিন স্থগিত করেছেন চেম্বার বিচারপতি।
এ বিষয়ে করা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন ওইদিন শুনানির জন্য আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। ওই দিন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আবেদনটির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে সোমবার সন্ত্রাস দমন আইনের করা দুই মামলায় জামিন পান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।
দুই মামলায় শাকিলার জামিন প্রশ্নে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদ ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ অভিযোগ গঠনের আগ পর্যন্ত তাকে জামিন দেয়।
ওই আদালতে শাকিলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও জয়নুল আবেদীন সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সগীর হোসেন লিওন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যার্টনি জেনারেল মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির।
দুই মামলায় জামিন হওয়ায় ও অন্য মামলা না থাকায় ব্যারিস্টার শাকিলার মুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী জেড আই খান পান্না।
প্রসঙ্গত: হামজা ব্রিগেড নামের একটি জঙ্গি সংগঠনকে অস্ত্র কেনায় এক কোটি ৮ লাখ টাকা যোগানোর অভিযোগে গতবছরের ১৮ আগস্ট রাতে ধানমন্ডি থেকে দুই আইনজীবী হাসানুজ্জামান লিটন ও মাহফুজ চৌধুরী বাপনসহ চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে শাকিলাকে গ্রেপ্তার করে র্যা ব।
এর মধ্যে লিটন সুপ্রিম কোর্টে ও মাহফুজ চৌধুরী বাপন ঢাকা জজ কোর্টে কর্মরত। পরে বাঁশখালী ও হাটহাজারী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আইনজীবী সগীর হোসেন বলেন, “দুই মামলায় গত বছরের ২৮ নভেম্বর বিচারিক আদালতে শাকিলার জামিন নামঞ্জুর হয়। ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হলে পরদিন প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল দেয়।
দুই মামলায় শাকিলা ফারজানাকে কেন জামিন দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয় রুলে, দুই সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের এর জবাব দিতে বলা হয়।
ওই রুলের ওপর ১৮ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আদালত ২২ ফেব্রুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করে।
গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ত্রাস দমন আইনে হাটহাজারী থানার মামলায় আইনজীবী লিটন ও বাপন জামিন পান।
এর আগে বাঁশখালী থানার মামলায় জামিন পান ওই দুই আইনজীবী। পরে গত ১৫ ডিসেম্বর তারা মুক্তি পান।