ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে এবার সমন জারি হলো ঝালকাঠিতে।
মঙ্গলবার এ সমন জারি করেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাহেদ আহমেদ পাঁচ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে করা একটি মামলায় তাকে হাজির হতে বলেছে। তাকে আগামী ৩১ মার্চ আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার ফরিদপুর ও মাগুরায় করা মানহানির দুটি মামলায়ও তাঁর বিরুদ্ধে সমন জারি হয়।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠিতে মানহানির এই মামলাটি করেন জেলা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা বরিন আমিন বাকলাই। তিনি নিজেই মামলাটির আইনজীবী। সেখানে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগ আনা হয়।
বাদী জানান, তথ্য কর্মকর্তার দেয়া প্রতিবেদন মামলার পক্ষে যাওয়ায় আদালত এ সমন জারি করেন।
গতকাল পর্যন্ত এ সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির অভিযোগে ১৪ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৭৭টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ২১টি মামলা করা হয়েছে। আর মানহানির মামলাগুলোর মধ্যে ৫১টিতে ১ লাখ ২২ হাজার ৪৭০ কোটি ৫৫ লাখ টাকার মানহানি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রায় সব কটি মামলার বাদী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ-সহযোগী ও সমমনা সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সরকারি কৌঁসুলি।
মাগুরায় ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে করা মানহানির একটি মামলায় তাকে ৮ মার্চ আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছে। এদিকে, তার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গায় ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হয়েছে।
মাগুরা: গত বৃহস্পতিবার মাগুরায় মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলাটি বিচারক আমলে নেয়া ও আদেশের জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন ঠিক করেছে।
জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন সবুজ মামলাটি দায়ের করেন।
বাদীর আইনজীবী রাশেদ মাহমুদ বলেন, বাদী আজ দুপুরে একই আদালতে হাজির হয়ে মামলা গ্রহণ ও আদেশের আবেদন করেন। হাকিম আবেদনটি গ্রহণ করেন এবং মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে সমন জারি করে আগামী ৮ মার্চ ধার্য দিনে তাকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
এদিকে, তার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গায় ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা: জেলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সদর থানার আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী মুখ্য বিচারিক হাকিম এ বি এম মাহমুদুল হক মামলা আমলে নিয়ে আগামী ৮ মার্চ আদেশের জন্য দিন ধার্য রাখেন।
এ নিয়ে আজ পর্যন্ত এ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সারাদেশে ৭৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২১টিতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ করা হয়। আর মানহানির মামলাগুলোর মধ্যে ৫০টিতে মোট ১২২ হাজার ৪২০ কোটি ৫০ লাখ টাকার মানহানি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রায় সব কটি মামলার বাদী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ-সহযোগী ও সমমনা সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সরকারি কৌঁসুলি।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে এক-এগারোর সময় সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের বিচ্যুতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম তার পত্রিকায়ও এমন ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছিল বলে স্বীকার করেন।
এর পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় নিজের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে ‘ডেইলি স্টার’-এর সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে বিচার চান। একদিন পর ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে কয়েকজন সাংসদ ‘ডেইলি স্টার’ বন্ধ করা এবং মাহফুজ আনামের পদত্যাগ ও বিচার দাবি করেন। এর পরদিন থেকেই মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছে।