পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পুরোহিতকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামিয়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ- জেএমবির সন্দেহভাজন তিন সদস্যকে দুই মামলায় তিন আসামিকে ১৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
তারা হলেন- সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের কালীরডাঙ্গা গ্রামের হারেজ আলী (৩২) এবং দণ্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জ মসজিদপাড়া গ্রামের রমজান আলী (২২)। একজনের নাম জানা যায়নি।
গতকাল পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হুমায়ুন কবির সংবাদ সম্মেলনে তিন জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। উদ্ধার করা অস্ত্র প্রদর্শন করা হলেও গ্রেপ্তারদের নাম প্রকাশ করেননি।
তবে দেবীগঞ্জের দুটি পরিবার দাবি করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে দুজনকে ধরে নেয়া হয়েছে।
ডিআইজি বলেন, ঘটনার দিন গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে বৃহস্পতিবার রাতে পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। ঘটনায় সরাসরি জড়িত পাঁচ জনের মধ্যে তিন জনই এ বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে। তারা জেএমবির স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতা। তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের হোতাও রয়েছে। বাকি দুই জনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
তিনি বলেন, এরা আইএস জঙ্গি নয়, জেএমবি সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
গত ২১ ফেব্রুয়রি দেবীগঞ্জের সোনাপোতা গ্রামের সন্তগৌরীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়কে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তাদের গুলি ও বোমার বিস্ফোরণে আহত হন আরো দুইজন।
ওই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ থানায় হত্যা মামলা করেন। অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে পুলিশ আরেকটি মামলা করে। দুটি মামলাতেই অজ্ঞাত পরিচয় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর খলিলুর রহমান ও বাবুল হোসেন নামে দুই জেএমবি সদস্য এবং জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক শিবির নেতা ও নাজমুস সাকিব নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে আটক করে পুলিশ।
অবশ্য পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নাজমুস সাকিবের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
আহত গোপাল ঘটনার বিবরণ দিয়ে হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমাকে দেখামাত্র ওই দুজন কোমর থেকে পিস্তল বের করে বলতে থাকে, ‘ওই ঘরে যাবি তো তোকেও কতল করব। তোর গুরুজীকে কতল করা হয়েছে। তোরা বড় আনন্দে আছিস, রান্না ঘরে কীর্তন গাইছিলি’-বলেই আমার বুক বরাবর গুলি ছুড়তে থাকে ওরা।
গতবছর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন হত্যা ও হামলার ঘটনার মতো পঞ্চগড়ের পুরোহিত হত্যার দায়ও মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি দল আইএস স্বীকার করেছে বলে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ দাবি করে। অন্যদিকে পুলিশ শুরু থেকেই বলে আসছে, ‘দেশীয় ধর্মান্ধ গোষ্ঠীই’ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।