রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলায় একমাত্র আসামি সাংসদপুত্র বখতিয়ার আলম ওরফে রনির বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযোগ গঠন বিষয়ক শুনানি শেষ আদেশ দেয়া হবে আগামী ৬ মার্চ।
রোববার ঢাকার দুই নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামছুন নাহার এ আদেশ দেন।
শুনানি চলাকালে বখতিয়ারের আইনজীবী আদালতকে জানায় আমার মক্কেল নির্দোষ— ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।
মামলার রেকর্ডপত্রে যা এসেছে তাতে দেখা যায় মাদকাসক্ত অবস্থায় তিনি গুলি ছুড়েছেন— কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল না। আর কয়েকজনকে আসামি করার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া যে ব্যালিস্টিক রিপোর্ট দেয়া হয়েছে সেখানে এই আসামির পিস্তল থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা নেই বলে জানান তিনি।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানায়, এ আসামির ছোড়া গুলিতেই দুজন নিরীহ লোক মারা গেছেন— তাই তার বিরুদ্ধে অবশ্যই অভিযোগ গঠন হবে।
সকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পিকআপ ভ্যানে করে আদালতে নেয়া হয়।
জানা গেছে, ভ্যান থেকে নেমে বখতিয়ার হেঁটেই যাচ্ছিল তবে পত্রিকা ও টিভি ক্যামেরাম্যানরা ছবি তুলতে শুরু করলে তিনি হুইল চেয়ারে বসে পড়েন।
গত জানুয়ারিতে বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তার আইনজীবী আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দফায় তারিখ পরিবর্তন করে আদালত।
অভিযোগ উঠেছে, আয়েশে থাকার জন্য বারবার অসুস্থতার কথা বলে বখতিয়ার হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে আর কালক্ষেপণ করতে বিচার কার্যক্রম বারবার পেছানো হয়েছে।
গত বছর ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে প্রাডো গাড়ি থেকে বখতিয়ার আলম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার পিস্তল দিয়ে চার-পাঁচটি গুলি ছোড়ে। এতে রিকশাচালক আবদুল হাকিম ও দৈনিক জনকণ্ঠর অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী আহত হন। হাকিম ১৫ এপ্রিল ও ইয়াকুব ২৩ এপ্রিল মারা যান। এ ঘটনায় হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম ১৫ এপ্রিল রাতে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। ডিবি পুলিশ সূত্রবিহীন এই মামলায় তথ্যপ্রযুক্তি ও দৈনিক জনকণ্ঠর ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) সহায়তায় সাংসদপুত্রের প্রাডো গাড়ি এবং তার ছেলে বখতিয়ারের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।
কারা সূত্রে জানা গেছে, বখতিয়ার কারাগারে ডিভিশনভোগী আসামি।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারাধ্যক্ষ মো. নেছার আলম বলেন, বখতিয়ার অর্থোপেডিক সমস্যায় ভুগছেন—কারা কর্তৃপক্ষকে এ কথা বলার পর চিকিৎসকের পরামর্শে গত ৩১ জানুয়ারি তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানেই আছেন।
কারাধ্যক্ষ এ কথা বললেও গত বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বখতিয়ার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধীন ১১০ নম্বর ভিআইপি কেবিনে চিকিৎসাধীন। তার তত্ত্বাবধানকারী চিকিৎসক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস এম হাফিজ বলেন, বখতিয়ারের কিডনির সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া রাতে তার ঘুম হয় না। এ কারণে তাকে সাইকোথেরাপি দেয়া হচ্ছে—তাকে শিগগিরই ছেড়ে দেয়া হবে।
হাসপাতাল ও কারা সূত্র জানায়, এর আগেও বখতিয়ার অসুস্থতার কথা বলে চার দফায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে ভর্তি হয়েছিল— কিন্তু চিকিৎসকেরা তার কোনো রোগ খুজে পাননি।