রাজধানীর রামপুরায় ভাই-বোনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় জব্দ করা আলামত ডিএনএ প্রোফাইলিং ও রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পুলিশকে অনুমতি দিয়েছে আদালত।
বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই সোমেন কুমার বড়ুয়া।
এ ঘটনায় পুলিশের জব্দ করা আলামত ডিএনএ প্রোফাইলিং ও রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য আবেদন জানান তিনি।
জব্দ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে বালিশ, বিছানার চাদর, বালিশের কভার, টিস্যু ও কম্বল আর রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে চাইনিজ রেস্টুরেন্টের খাবার বোতলের সংরক্ষিত পানি।
পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী কমিশনার মিরাশ উদ্দিন বলেন , এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বিচারক পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) রাসায়নিক গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গত সোমবার দুপুরে বনশ্রীর বাসায় দুই শিশুকে এক বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পোশাক ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ ও মাহফুজা মালেক জেসমিনের মেয়ে নুসরাত আমান অরণী (১৪) ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণিতে ও ছেলে আলভী আমান (৬) হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের নার্সারিতে পড়ত।
শিশু দুটির পরিবার থেকে প্রাথমিক অবস্থায় জানানো হয়েছিল খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় দুই ভাই-বোন মারা যায়।
মঙ্গলবার সকালে শিশু দুটির শরীরে আঘাতের দাগ রয়েছে জানিয়ে ময়নাতদন্তে প্রতিবেদনে এটিকে ‘হত্যাজনিত’ মৃত্যু বলে মত দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা।
এরপর ময়নাতদন্তে হত্যার আলামত পাওয়ার পর ভবনের দুই দারোয়ান, গৃহশিক্ষিকা এবং এক আত্মীয়কেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যা ব-৩ এর ক্যাম্পে নেয়া হয় তারা এখনো র্যা ব হেফাজতে রয়েছেন।
সোমবারই ‘কেন্ট’ নামে বনশ্রীর যে রেস্তোরাঁর খাবার তারা খেয়েছিল, তার ব্যবস্থাপক ও প্রধান বাবুর্চিসহ তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলে পুলিশ।
আজ-বুধবার দুই শিশুর বাবা, মা ও খালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জামালপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে র্যা বের গাড়িতে করে ঢাকায় আনা হচ্ছে।
মরদেহ দাফনের জন্য শিশুটির বাবা-মা জামালপুরে গিয়েছিলেন।