মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মীর কাশেম আলীর মামলা নিয়ে আদালত সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়ায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সময় আবেদন মঞ্জুর করে ২০ মার্চ আদালতে হাজিরের নির্দেশ নিয়েছে হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন নয় প্রধান বিচারকের পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ নতুন এ তারিখে ঠিক ধার্য করে।
মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টায় আপিল বিভাগে উপস্থিত হন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।
এদিকে, গতকাল সোমবার খাদ্যমন্ত্রী নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে তার আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুবের মাধ্যমে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। সেখানেই তিনি সময়ের আবেদন করেন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ মার্চ রাজধানীর বিলিয়া মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমূল কমিটির এক গোলটেবিল আলোচনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মীর কাসেম আলীর আপিলের রায় ঘোষণা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও সংশয় প্রকাশ করেন দুইমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রধান বিচারপতি পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে নতুন বেঞ্চ গঠন করে মীর কাসেম আলীর আপিলের পুনঃ শুনানির দাবি জানান। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক. ম মোজাম্মেল হক প্রধান বিচারপতি তার আসনে থাকতে চাইলে ‘অতিকথন’ বন্ধ করা উচিত বলেও পরামর্শ দেন।
এরপর ৮ মার্চ মীর কাসেমের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ দুই মন্ত্রীকে ১৫ মার্চ তলবের আদেশ দেন। তাদেরকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যখ্যা দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ১৪ মার্চ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
ওইদিন আদালত বলেন, বিচার বিভাগ নিয়ে দুইমন্ত্রীর বক্তব্যে আমরা স্তম্ভিত। বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ আদালত অবমাননার শামিল।