সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের অন্তর্ভূক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে ২৮ বছর আগে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ সোমবার শুনানির পর আবেদনটি খারিজ করে।
রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়ে আদেশে বলা হয়, আবেদনকারিদের রিট করার কোনো অধিকারই নেই। এ রায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম বহাল থাকার পাশাপাশি অন্য ধর্মের অধিকারও বহাল থাকলো।
রিট আবেদন কারিদের পক্ষে আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় দেখে এবিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
এদিকে, রিট আবেদন শুনানির আগে সকালে সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগ্রহণ করতে প্রধান বিচারপতি বরাবর একটি স্বারক লিপি দেয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
আবেদনের ২৩ বছর পর ২০১১ সালের ৮ জুন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে। ওই দিনই অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ১৪ জন জ্যৈষ্ঠ আইনজীবীকে নিয়োগ দেয়া হয়।
রুল জারির প্রায় পাঁচ বছর পর চলতি বছরের ৮ মার্চ এই রুল টি শুনানির জন্য আদালতে উঠে। ওই দিন আদালত অ্যামিকাস কিউরিদের বাদ দিয়ে রুল শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করে।
প্রসঙ্গত, ২৮ বছর আগে এরশাদ সরকারের সময় সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করা হয়। সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে বিরোধী দলবিহীন চতুর্থ জাতীয় সংসদে ১৯৮৮ সালের ৫ জুন সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংযোজন করা হয়।
তবে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে যাত্রা শুরু করা বংলাদেশে রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে এ পরিবর্তনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট করে স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটি।
সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক ছিলেন সেই কমিটিতে। তাদের ১০ জনই মারা গেছেন।