চট্টগ্রামে জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’ এ অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে র্যা ব।
রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিম মুন্সী মো. মশিয়ার রহমানের আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যা ব-৭-এর সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন।
এর আগে গত ২০ মার্চ বাঁশখালী থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেকটি মামলায় শাকিলাসহ ২৮জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।
র্যা ব-৭ এর চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়ন ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করেন আসামিরা। অভিযোগপত্রে শাকিলার পাশাপাশি মো. হাসানুজ্জামান ও মাহফুজ চৌধুরীসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরের দুই আইনজীবী বর্তমানে জামিনে আছেন। সাক্ষী রাখা হয়েছে ৮৩ জনকে। নাম পাওয়া গেলেও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় ৫৩ জনকে আসামি করা যায়নি।
উল্লেখ, গতবছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারী উপজেলার পৌরসদরে একটি ছোট মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণকালে জঙ্গি সন্দেহে ১২ জনকে আটক করে র্যা ব। ওই ঘটনায় হাটহাজারী থানায় মামলা করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর লটমনি পাহাড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সন্ধান পায় র্যা ব। ওই সময় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বাঁশখালী থানায় দুটি মামলা করে র্যা ব। জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের অর্থের জোগানদাতা হিসেবে তিন আইনজীবীর নাম পাওয়া গেলে ১৮ আগস্ট তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতের নির্দেশনা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’-এর জন্য সংগৃহীত ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে তিন আইনজীবী ১ কোটি ৮ লাখ টাকা দিয়েছে। এ ছাড়া অর্থের জোগানদাতা হিসেবে দুবাইয়ের নাগরিক আল্লামা লিবদির নাম জানা গেছে।
র্যা বের দাবি, ব্যারিস্টার শাকিলা দুই দফায় ২৫ লাখ ও ২৭ লাখ করে ৫২ লাখ টাকা, আইনজীবী মো. হাছানুজ্জামান ৩১ লাখ এবং মাহফুজ চৌধুরী ২৫ লাখ টাকা দিয়েছেন জঙ্গিদের।