গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এমএ মান্নানের পক্ষে দেয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিতের আবেদন আপিল বিভাগ শুনানি শেষে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছে আদালত।
এর ফলে মান্নানের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশই বহাল রইল।
মান্নানের আইনজীবী মো. আবু হানিফ বলেন, এ আদেশের ফলে মেয়র হিসেবে মান্নানের দায়িত্ব পালনে আইনগত কোনো বাধা থাকলো না।
বুধবার মান্নানের সাময়িক বরাস্তের আদেশ স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান।
প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়।
গতবছর ১৯ আগস্ট জয়দেবপুর থানার একটি ফৌজদারি মামলায় মান্নানের বিরুদ্ধে পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করায় স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ৩১ মার্চ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এম এ মান্নান, যা ১১ এপ্রিল শুনানির জন্য ওঠে।
শুনানি শেষে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ মান্নানের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে।
আদালত মান্নানকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করে।
তারপর হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বে থাকা প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান মঙ্গলবার চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন নিয়ে যান। চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেয়।
এর ধারাবাহিকতায় বুধবার বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য এলে কিরণের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং মান্নানের পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন ও মো. আবু হানিফ শুনানি করেন।
প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মান্নানকে গতবছর ১১ ফেব্রুয়ারি তার ঢাকার বারিধারার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার জায়গায় গত ৮ মার্চ থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ।
মান্নানের আইনজীবী আবু হানিফ বলেন, মোট ১৯টি মামলায় মেয়র মান্নানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২ মার্চ তিনি মুক্তি হন।