মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে কিশোরগঞ্জ করিমগঞ্জের দুই ভাই শামসুদ্দিন-নাসিরউদ্দিনসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ড ও অন্য এক রাজাকারকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি এম আনোয়ারুল হক এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো: অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ, তার নাসিরউদ্দিন আহমেদ এবং একাত্তরে স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার গাজী আবদুল মান্নান ও হাফিজ উদ্দিন। আর আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আজহারুল ইসলামকে। এদের মধ্যে শামসুদ্দিন ছাড়া আর সবাই পলাতক রয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, অগ্নিসংযোগসহ সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এ রায় দেয় আদালত।
এর আগে ১১ এপ্রিল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখে।
গতবছরের ১২ অক্টোবর এ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। এরপর ৪ নভেম্বর থেকে চলতি বছর ১ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমানসহ ২৫জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী ছিলেন না।
গত বছরের ১৩ এপ্রিল প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) তৈরি করে ট্রাইব্যুনালে তা দাখিল করে। ১৩ মে এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ২০১৪ সালের ৬ জুন থেকে এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় ৪৫০ পৃষ্ঠার এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।