মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় ময়মনসিংহ-জামালপুর ও পটুয়াখালীর ১৩ জনের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা। এই দুই প্রতিবেদন ৩৯তম ও ৪০তম তদন্তের।
বুধবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন দুটির বিস্তারিত তুলে ধরেন তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান ও জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক।
আজই প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়া হবে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তারা। এর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) তৈরি করে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করবেন প্রসিকিউশন।
তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ময়মনসিংহ-জামালপুরের ৮ আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলায় ১৬টি ও পটুয়াখালীর ৫ আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলায় ৮টিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ২৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
পটুয়াখালীর মামলাটির আসামি ৫ জন হলো: মো. এসহাক সিকদার (৮৩), আ. গনি হাওলাদার (৭২), আওয়াল মৌলভী (৬৯), আ. ছাত্তার (৬৫) ও সোলায়মান মৃধা। তাদের বিরুদ্ধে ৩৯তম তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর। ১ বছর ৫ মাস ৯ দিন তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ প্রমাণের জন্য ৫১ জনের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে, যারা সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেবেন।
অন্য মামলাটির আসামি ময়মনসিংহ ও জামালপুরের ৮ জন। তারা হলো: রেজাউল করীম ওরফে আক্কাস মৌলভী (৬৫), এবিএম ইউনুস আলী (৬৫), তার ছোট ভাই মো. ইউসুফ আলী ওরফে এ কে এম ইউসুফ আলম (৬০), মো. ওমর ফারুক (৭০), মো. নাসির উদ্দিন (৬৪), মো. ইসমাইল হোসেন (৬৫), একেএম বেলায়েত হোসেন ৬৪) ও কাজী বদরুজ্জামান (৬৫)।
তাদের বিরুদ্ধে ৪০তম চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।