মানবতাবিরোধী অপরাধে বদর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র— বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
তিনি বলেন, ‘পরবর্তী পর্যায়ে এখন জেল কর্তৃপক্ষের কাছে এই রিভিউ পিটিশনের রায়ের কপি যাবে, যাওয়ার পরে জেল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে কখন রায় কার্যকর করা হবে। আবার জেল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে সরকারের নির্দেশের আলোকে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, ‘রাষ্ট্র তার মেধা দিয়ে বিচারকাজ শেষ করেছে, তাকে (নিজামী) সর্বোচ্চ ফাঁসির কাষ্ঠের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়-দায়িত্ব নিজামীএড়াতে পারেন না। কারণ ওই সময় ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি তিনি ছিলেন।’
এ যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবেন কিনা সে বিষয়ে তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
তিনি বলেন, ‘সেটা আমাদের ব্যাপার না সেটা আসামির ব্যাপার।’
বৃহস্পতিবার তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। ফলে এ বদর প্রধানের ফাঁসি কার্যকরে আর কোনো আইনি বাধা রইলো না। বাকি শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন। দোষ স্বীকার করে আবেদন করলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আর না করলে সরকার যে কোনো সময় ফাঁসি কার্যকর করতে পারবে।
সকালে আলবদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর রায়কে কেন্দ্র করে সুপ্রিমকোর্ট এলাকায় নেয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে এজলাসে আসে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদ্যস্যের আপিল বেঞ্চ এ যুদ্ধাপরাধীর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেয়।
যারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে এ সাজা তাদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।