বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।
তিনি জানান, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে এ আপিলের শুনানি হতে পারে। -
গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছ থেকে জাতীয় সংসদে ফিরিয়ে নেয়ার বিধানসম্বলিত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে।
আদালত সূত্রে ওইদিন জানা যায়, বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে এ সংশোধনী আনা হয়--তবে রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
ফিরে দেখা:
উল্লেখ, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়া হয়। যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল।
সংবিধানে এ সংশোধনী হওয়ায় মৌল কাঠামোতে পরিবর্তন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করবে-- এ যুক্তিতে ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়।
ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর রুল জারি করে।
রুলে ওই সংশোধনী কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না? তা জানতে চাওয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, আইন সচিব ও সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
এ রুলের ওপর ২০১৫ সালের ২১ মে শুনানি শুরু হয়। ওইদিন আদালত মতামত দিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে জ্যেষ্ঠ ৫ আইনজীবীর নাম ঘোষণা করেন।
এর মধ্যে ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসি অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
গত ১০ মার্চ মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৫ মে রায়ের দিন ধার্য করা হয়।