মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে হবিগঞ্জের দুই ভাই ও তাদের এক চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে যে কোনো দিন।
আসামিরা হলো: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার খাগাউড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান বড় মিয়া, তার ছোট ভাই বর্তমান চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া এবং তাদের চাচাতো ভাই আবদুর রাজ্জাক।
বুধবার প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন।
আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া, পারভেজ হোসেন ও এম. মাসুদ রানা।
এই তিনজনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় চারটি ঘটনায় হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০০৯ সালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকল মিয়ার স্ত্রী ভিংরাজ বিবি হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই তিনজনসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন।
পরে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
এর আগে, রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনে গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ দুই সহোদরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর ওইদিন রাতেই বানিয়াচং থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ। একই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্যদিকে, ১৭ মে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির দুই দিন পর ১৯ মে মহিবুর-মুজিবুরের চাচাতো ভাই রাজ্জাককে মৌলভীবাজারের আথানগিরি পাহাড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিন ট্রাইব্যুনালে ৩ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্রও দেয় প্রসিকিউশন।
গতবছর ২৯ সেপ্টেম্বর যুদ্ধাপরাধের চার ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে এ তিন ভাইয়ের বিচার শুরু করে আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২১ অক্টোবর।