বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ঢাকার ইডেন কলেজের ছাত্রী শরীফা আক্তার পুতুলকে হত্যার দায়ে তার স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান খান আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শেখ মোহম্মদ আলী বলেন, শরীফার বড় বোন সাগরিকা হলেন মাহমুদুলের বড় ভাই শাইকুলের স্ত্রী। আত্মীয়তার সূত্রে ইডেন কলেজের ছাত্রী শরীফা আক্তারের সঙ্গে মাহমুদুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে পরে পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে তারা গোপনে বিয়ে করেন।
ছয় মাস পর ঘটনা জানাজানি হলে ২০১৩ সালের ১০ মে উভয় পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ে দেন।
বিয়ের তিন দিন পর ১৩ মে রাত ২টার দিকে মাহমুদ ঘুমাতে গিয়ে শরীফার মোবাইল ফোনে অশ্লীল এসএমএস দেখলে দুজনের কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে শরীফাকে দা দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে বলে জানান তিনি।
মোহম্মদ আলী বলেন, ঘটনার পরদিন ১৪ মে নিহত শরীফার বাবা মো. আবু দাউদ বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় মাহমুদুল আলমের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোল্লাহাট থানার ওসি আ ন ম খায়রুল আনাম তদন্ত শেষে ওই বছরের ১০ নভেম্বর মাহমুদুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এই রায় ঘোষণা করে।
নিহতের বাবা আবু দাউদ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মাহমুদুল আলমকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে তার মৃতুদণ্ড কার্যকর করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
দণ্ডিত শিকদার মাহমুদুল আলম মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের উদয়পুর দৈবকান্দি গ্রামের প্রয়াত শিকদার সামছুল আলমের ছেলে, আর শরীফা আক্তার পুতুল (২১) একই গ্রামের মো. আবু দাউদের মেয়ে এবং ঢাকা ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইতিহাস বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।