বাংলাদেশের সরকার উৎখাতে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত থাকার অভিযোগে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীকে ৭ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।
সোমবার ঢাকার হাকিমের আদালতে তাকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ।
এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।
জানা গেছে, তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দশ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাওয়া হবে।
গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম জানান, রোববার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার পথে ঢাকার খিলক্ষেত থেকে আসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তার সঙ্গে গাড়িতে থাকা তার এক সহযোগী এবং চালককেও আটক করে পুলিশ। পরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে।
এর আগে, দুপুরে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়—তাকে যেখানেই পা্ওয়া যাবে সেখানেই গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার ইকবাল বাহার।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে গিয়ে আসলাম চৌধুরী ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠক করেন।
বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় আসলামের সঙ্গে ভারতে মেন্দি এন সাফাদির ওই বৈঠকের পর সাক্ষাতের খবর ও ছবি প্রকাশিত হয়। দিল্লিতে ডেল-আভিভ শীর্ষক ওই সম্মেলন এবং মেন্দি এন সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনসের ফেইসবুক পেইজেও দেখা যায় তাদের একাধিক ছবি।
লিকুদ পার্টির সদস্য মেন্দি এন সাফাদি ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের উপমন্ত্রী এম কে আয়ুব কারার একজন সাবেক উপদেষ্টা। তিনি নিজের নামে মেন্দি এন সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস প্রতিষ্ঠানটি চালান।
আসলাম ইসরায়েলি রাজনীতিক মেন্দির সঙ্গে ভারতে সাক্ষাতের হওয়ার খবর অস্বীকার করেননি। তবে একাধিক পত্রিকা ও টেলিভিশনে তিনি বলেন, তিনি তখন জানতেন না যে মেন্দি এন সাফাদি ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির নেতা।
এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে বিএনপি ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে মিলে ‘ষড়যন্ত্র’করছে।
তবে বিএনপি ইসরায়েল কিংবা মোসাদের সঙ্গে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, আসলামের ওই সফর ছিল ‘ব্যক্তিগত’।