ঊচ্চ আদালতের খালাসের রায়ের পর মুক্তি পাওয়া সাতক্ষীরার জবেদ আলী বিশ্বাসের ‘মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ায়’ কেন তাকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের বেঞ্চ এ রুল জারি করেছে।
জবেদ আলীকে ‘বেআইনিভাবে’ কারাবন্দি রাখায় বিবাদীদের ‘নিষ্ক্রিয়তা ও অবহেলা’ কেন সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫ ও ৩৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন সচিব, হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-৩ এর তৎকালীন বিচারক, আইজিপি (প্রিজন) ও সাতক্ষীরার জেলসুপারকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ১৯ মে চিলড্রেনস চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এ রিট আবেদন করে। এছাড়া ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
খালাসের রায়ের ১৩ বছর পর কারামুক্ত হলেন জবেদ আলী’ শিরোনামে গত ৩ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে তার সঙ্গে।
ওই রিট আবেদনে ১৩ বছর বিনাবিচারে আটক রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ক্ষতিপূরণের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল হালিম নিজেই আদালতে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
আবদুল হালিম বলেন, নিম্ন আদালত ২০০১ সালে এক মামলায় জবেদ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় পরে জাবেদ আলীর করা আপিলে ২০০৩ সালে হাইকোর্ট তাকে খালাস দেয়।
কিন্তু সাতক্ষীরার তখনকার অতিরিক্ত দায়রা জজ খালাসের আদেশ কারাগারে না পাঠানোয় জাবেদের মুক্তি আটকে থাকে ১৩ বছর। চলতি বছর ২ মার্চ তিনি মুক্তি পেলে বিষয়টি খবরের শিরোনামে আসে।
সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৫ ও ৩৬ অনুচ্ছেদের মৌলিক অধিকাল লঙ্ঘন হয়েছে দাবি করে এ রিট আবেদন করা হয়েছে বলে জানান এই আইনজীবী।
সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনের আশ্রয় পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। আইনের বাইরে গিয়ে এমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাবে না, যাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।
আইন বহির্ভূতভাবে কাউকে তার জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, বলা হয়েছে ৩২ অনুচ্ছেদে।
সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে দণ্ড দেয়ার ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ, বিচার পাওয়ার অধিকার, জবানবন্দি গ্রহণ ও নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ সম্পর্কে বলা হয়েছে। আর ৩৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে নাগরিকদের চলাফেরা, বসবাস ও দেশত্যাগ বা দেশে ফেরার অধিকারের বিষয়ে।