বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা চলবে—এ মর্মে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে খালেদা জিয়াকে আগামী দুই মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ঢাকার বিশেষ জজ-৯ আমিনুল ইসলামের আদালতে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলছে। আগামী ১২ জুন অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানির দিন ঠিক রয়েছে।
এ মামলাটির মোট আসামি ১১ জন, তারা হলেন: বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এস আর ওসমানী, সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও খনির কাজ পাওয়া কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।
সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও এম শামসুল ইসলাম মারা যাওয়ায় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি হওয়ায় তারা আসামি তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
এর আগে ২৪ মে পর্যন্ত দুদক দায়ের করার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলার কার্যক্রম মুলতবি করে আদালত। ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ২৫ এপ্রিল এ আদেশ দেয়।
এ সময় আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ ও অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন মেসবাহ।
ঊচ্চ আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ দিন এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত ছিল। তবে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক আদেশে এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি চেয়ারপারসনের করা আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
একইসঙ্গে মামলাটি থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেয় আদালত। হাইকোর্টের রায়ের ফলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া মামলা চলতে বাধা দূর হয়। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের কথা জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।
উল্লেখ্য, এক-এগারোর জরুরি অবস্থার সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তার মন্ত্রিসভার ১০ সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়ালাখনি মামলা দায়ের করে। ওই বছর ৫ অক্টোবর ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
পরে মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর খালেদা জিয়া ৫৬১ ধারা বলে একটি আবেদন করলে হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং রুল জারি করে।
তবে মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না— রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। হাইকোর্টের ওই আদেশ আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় বিচারকার্যক্রম স্থগিত থাকে। পরে মামলার স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
গত ২০১৫ সালের শুরুতে মামলাটিতে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করে দুদক-- ওই আবেদনের ওপর গত ১৯ এপ্রিল হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়।
গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১১ কার্যদিবস শুনানি শেষে বিষয়টি রায়ের জন্য অপেমাণ (সিএভি) রাখে আদালত। এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ আবেদনের ওপর রায় দেয়া হয়।