মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হবিগঞ্জের তিন ভাইয়ের মধ্যে একজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ২ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে আনীত ৪টি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে মহিবুর রহমানকে (৬৫) মৃত্যুদণ্ড এবং মজিবুর রহমান (৬০) ও আবদুর রাজ্জাককে (৬৩) আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এ রায় ঘোষণা করে।
এর আগে সকালে হবিগঞ্জের তিন ভাইয়ের ২৪০ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের প্রারম্ভিক বক্তব্যের পর বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী ২৪০ পৃষ্ঠার রায়ের সার সংক্ষেপ পড়া শুরু করেন।
এরপর বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম রায়ের বাকি অংশ পড়বেন এবং সবশেষে বিচারপতি আনোয়ারুল হক সাজা ঘোষণা করবেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪টি ঘটনায় হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।
গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর যুদ্ধাপরাধের চার ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে এই তিন ভাইয়ের বিচার শুরু করে আদালত। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত ১১ মে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে।
৪টি অভিযোগ হলো:
অভিযোগ ১: ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর বানিয়াচং উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আকল আলী ও রজব আলীকে হত্যা করে মরদেহ গুম করে আসামিরা।
অভিযোগ ২: আসামিরা পাকিস্তানি বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মেজর জেনারেল এমএ রবের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ করে।
অভিযোগ ৩: একই দিন খাগাউড়া এলাকার উত্তরপাড়ায় আসামিদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি বাহিনী মঞ্জব আলীর স্ত্রী ও আওলাদ ওরফে আল্লাত মিয়ার ছোট বোনকে ধর্ষণ করে। পরে আল্লাত মিয়ার বোন বিষপানে আত্মহত্যা করেন।
অভিযোগ ৪: একাত্তর সালের ভাদ্র মাসের যে কোনো একদিন আনছার আলীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন চালায় আসামিরা। ওই নির্যাতনে পঙ্গু হন আনছার আলী।