নারায়ণগঞ্জের স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনার করা তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৪ আগস্ট আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছে।
বিষয়টি আগামী ৭ আগস্ট আদেশের জন্য আবার তালিকায় আসবে বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জিডির তদন্তে যে ফল পাওয়া গেছে, তা হলফনামা আকারে ৪ আগস্ট আদালতে দাখিল করতে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বুধবারর ওই ঘটনার তদন্তে ‘অগ্রগতি আছে’ জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসি হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিতে ৬০ দিন সময় চেয়ে আবেদন করেন।
আজ ওই আবেদনের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদন আদালতের সামনে তুলে ধরেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
যে দুই আইনজীবী শিক্ষক লাঞ্ছনার বিষয়ে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন আদালতের নজরে এনেছিলেন, তাদের মধ্যে মহসিন রশিদও আদালতে উপন্থিত ছিলেন।
পরে আদালত জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদন নথিভুক্ত করে পুলিশকে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ৪ আগস্ট দিন ঠিক করে দেয়।
গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে মারধর করে স্থানীয় সাংসদসহ তার লোকেরা। পরে তাকে কান ধরিয়ে উঠ-বস করান স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
দেশজুড়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবির মধ্যেই ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তার দুই দিনের মাথায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল পর্যদের ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে জানায়, প্রধান শিক্ষক তার পদে বহাল আছেন। নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেয়ায় স্কুল কমিটিও বাতিল করে মন্ত্রণালয়।
ওই ঘটনা নিয়ে সংবাদপত্রে আসা প্রতিবেদন ১৮ মে আদালতের নজরে আনেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান ও মহসীন রশিদ। সেদিন আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়।
সাংসদ সেলিম ওসমানসহ ওই ঘটনায় যাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। পাশাপাশি ওই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছ- তা জানতে চায় আদালত।
আদেশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশও দেয় আদালত।
এর ধারাবাহিকতায় ২৯ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
স্থানীয় প্রশাসনের দেয়া প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত সেদিন বলে, ‘দায়সারা নয়’, আগামী ৮ জুনের মধ্যে ‘সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ’ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।