আদালত

আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা: ৬ জনের ফাঁসির রায় হাইকোর্টে বহাল

আহসান উল্লাহ মাস্টার
আহসান উল্লাহ মাস্টার

এক যুগ আগে গাজীপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স আপিলের উপর- বুধবার হাইকোর্টে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিএনপি নেতা নুরুল আসলামসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছে।

আজ রায়ে ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন বহাল আর সাজা কমেছে সাতজনের এবং খালাস পেয়েছেন ১১জন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকা এই ছয় আসামি হলেন নুরুল ইসলাম সরকার, নুরুল ইসলাম দীপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহীদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ ও সোহাগ ওরফে সরু। যাবজ্জীবন বহাল রাখা হয় টিপু ও নুরুল আমিনের।

গত বুধবার ৮ জুন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রায়ের এ দিন ধার্য করে দেয়। এরমধ্য দিয়ে এক যুগ আগে ঘটে যাওয়া নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হাইকোর্টে শেষ হলো।

গত ১৪ জানুয়ারি থেকে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স আপিল আবেদনের উপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। গত ৮ জুন শুনানি শেষ হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলায় বিচারিক আদালত যে রায় দিয়েছে, তা বহাল থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল রোনা নাহরীন ও সহকারী এটর্নি জেনারেল মনজু নাজনিন। আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, টি এইচ খান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এজে মোহাম্মদ অলী, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ কয়েকজন আইনজীবী।

বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভা চলাকালে একদল সন্ত্রাসী নির্মম ও বর্বরোচিতভাবে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে আরো খুন হন ওমর ফারুক রতন নামে আরেকজন।

এ ঘটনার পরদিন আহসান উল্লাহ মাস্টারের ভাই মতিউর রহমান বাদী হয়ে টঙ্গী থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় তদন্ত শেষে ২০০৪ সালের ১০ জুলাই ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। একই বছরের ২৮ অক্টোবর ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচারিক আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ৩৪ জন এবং আসামিপক্ষে দুজন সাক্ষ্য দেন।

মামলায় উভয়পক্ষে সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শেষে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৩০ আসামির মধ্যে গাজীপুর জেলার বিএনপি নেতা ও ওই সময় জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া খালাস পায় অন্য দুই আসামি।

নিম্ন আদালতের রায়ের পর ২২ আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানির জন্য ২০০৫ সালে হাইকোর্টে আসে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ আসামির মধ্যে ১৪ জন রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করেন।

মামলার তথ্য অনুসারে, আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার পরিকল্পনার দায়ে বিচারিক আদালতের রায়ে বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আরো ২১ আসামি হলেন- নুরুল ইসলাম দিপু, মোহাম্মদ আলী, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, আমির হোসেন, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, শহীদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, ফয়সাল, সোহাগ ওরফে সরু, লোকমান হোসেন ওরফে বুলু, আল আমিন, রতন মিয়া ওরফে বড়মিয়া, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির,জাহাঙ্গীর, রতন ওরফে ছোট রতন, আবু সালাম ওরফে সালাম, মশিউর রহমান ওরফে মনু, খোকন, দুলাল মিয়া।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ছয় আসামি হলেন-রাকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু সরকার, আইয়ুব আলী, জাহাঙ্গীর, নুরুল আমিন, মনির ও অহিদুল ইসলাম টিপু (পলাতক)। রায়ে খালাস পায় কবির হোসেন ও আবু হায়দার ওরফে মিরপুরইয়া বাবু।

মামলায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২২ আসামির মধ্যে আট আসামি পলাতক ও দুজন মৃত্যুবরণ করেছেন। পলাতক আটজন হলেন-নুরুল ইসলাম দিপু, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, মরকুনের জাহাঙ্গীর, মশিউর রহমান ওরফে মশু ও খোকন।

এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ছয় আসামির মধ্যে এক আসামি অহিদুল ইসলাম টিপুও পলাতক। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি ছোট রতন ও আল আমিন মৃত্যুবরণ করেন।

স্থানীয়ভাবে শ্রমজীবী মানুষের কাছে জনপ্রিয় এ নেতা যুবক বয়সেই ১৯৮৩ ও ১৯৮৮ সালে দু’বার তার ইউনিয়ন পুবাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯০ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন তিনি। এরপর আহসান উল্লাহ মাস্টার ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে গাজীপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য, জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। তার মৃত্যুর পর গাজীপুর-২ আসন থেকে তার ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল টানা তৃতীয় বারের মতো ওই আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

১৯৫০ সালের ৯ নভেম্বর গাজীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন আহসান উল্লাহ মাস্টার। ১৯৬৫ সালে এসএসসি পাস করে তৎকালীন কায়েদে আযম কলেজে (বর্তমান শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ) একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হন তিনি। ১৯৭০ সালে ডিগ্রি পাস করার পর তিনি টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এ প্রতিষ্ঠান চত্বরেই হত্যার শিকার হন জনপ্রিয় নেতা ও সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার। মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। (সূত্র বাসস)

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

আল আমিনের তালাক: সন্তান নিয়ে আদালতে স্ত্রী

অস্ত্র মামলা: জি কে শামীমসহ ৮ জনের যাবজ্জীবন

আবেদন করলে খালেদা জিয়ার আবারো মুক্তির মেয়াদ বাড়বে: আইনমন্ত্রী

রুবেল-বরকতের অর্থপাচার মামলা ফের তদন্তের নির্দেশ আদালতের

জাহালমকে পাঁচ লাখ টাকা দিলো ব্র্যাক ব্যাংক

৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ বাতিল

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতি বাতিলের রায় স্থগিত

ডেসটিনির চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদের জামিন

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ