মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর কমান্ডার মীর কাসেমের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারিত হতে পারে জুলাই এর শেষ সপ্তাহেই। রিভিউ আবেদনে এই যুদ্ধাপরাধীর সাজা বহাল থাকলে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হবে।
এই যুদ্ধাপরাধীর মামলার আপিল শুনানি চলার সময় দায়সারাভাবে কাজ করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউসন টিমের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।
প্রধান বিচারপতির এ মন্তব্যের পর ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাকে বাদ দিয়ে মীর কাসেমের মামলার পুনঃশুনানির দাবি ওঠে বিভিন্ন মহলে। তবে, ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখেই চলতি বছরের ৮ মার্চ সংক্ষিপ্ত রায় দেয় আপিল বিভাগ।
গত ৬ জুন এই যুদ্ধাপরাধীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ১৯ জুন রিভিউ আবেদন করলে ২৫ জুলাই রিভিউ আবেদনের শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হলে ৭ দিনের মধ্যে এই মানবতাবিরোধী অপরাধী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। আর রাষ্ট্রপতি ক্ষমা না করলে সরকার যে কোনো দিন তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে।
চূড়ান্ত বিচার প্রক্রিয়া শেষে এ পর্যন্ত ৫ শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকর করা হয়েছে। আর পূনর্বিবেচনার আবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়টি।
এই যুদ্ধাপরাধীর সাজা বহাল থাকলে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হবে। শুনানি শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে আরো ৮ যুদ্ধাপরাধীর মামলা।
এরা হলেন, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, আব্দুস সুবহান, মোবারক হোসেন, সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার, মাহিদুর রহমান, ফোরকান মল্লিক ও আকরাম হোসেন।
এছাড়া, চারটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পলাতক ৫ আসামি আপিল করেননি। এরা হলেন, বাচ্চু রাজাকার, বদর বাহিনীর নেতা চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান, খোকন রাজাকার ও রাজাকার সৈয়দ হাসান আলী।