মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জামালপুরের ৩ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন রাজাকার হলো: আব্দুল মান্নান, আব্দুল বারী ও স্থানীয় আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেন। এই ৩ জনই পলাতক রয়েছে।
সোমবার বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ এ রায় দেয়।
মামলার ৮ আসামির মধ্যে দু'জন শামসুল আলম ওরফে বদর ভাই ও এস এম ইউসুফ আলী কারাগারে রয়েছে।
পলাতক বাকি ৩ জন হলো: শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো. হারুন ও আবুল কাসেম।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর এ আট রাজাকারের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, লুটপাট ও গুমের পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
তাদের বিরুদ্ধে ৪০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ৩ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আশরাফ হোসেনসহ অভিযুক্ত ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ওই দিনই বিকেলে জামালপুর শহরের নয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে শামসুল হককে ও ফুলবাড়িয়ার জাহেদা শফির মহিলা কলেজগেট প্রাঙ্গণ থেকে ইউসুফ আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার প্রধান আসামি পলাতক আশরাফ হোসেন আলবদর বাহিনীর জামালপুর মহকুমা কমান্ডার ছিলেন। তার মাধ্যমেই মূলত ইসলামী ছাত্রসংঘের বাছাই করা কর্মীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে জামাতের কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনী গঠিত হয়।
এছাড়া পলাতক অধ্যাপক শরীফ আহম্মেদ বিভিন্ন সময়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন।