হাজারীবাগে সময়মত ট্যানারি স্থানান্তর না করায় ১৫৪ কারখানাকে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদেশে বলা হয়েছে, পরিবেশের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ট্যানারি মালিকদের ১০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। এরমধ্যে অর্ধেক টাকা লিভার ফাউন্ডেশনকে জমা দিতে হবে। বাকি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।
এর আগে ১৫৪টি ট্যানারি শিল্পকারখানার মালিকদের প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলো আদালত। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ট্যানারি মালিক সংগঠন আপিল করলে তা ১০ হাজার করা হয়।
২০০১ সালে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি-শিল্প সরিয়ে নিতে হাইকোর্ট রায় দেয়। এরপর কয়েক দফা এর সময় বাড়ানো হলেও ট্যানারি না সরায় আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে এইচআরপিবি।
ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে হাইকোর্ট আদালত অবমাননার রুল দিয়ে শিল্পসচিবের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। শিল্পসচিব ব্যাখ্যায় বলেন, ১০টি প্রতিষ্ঠান বারবার তাগিদ সত্ত্বেও তাদের কারখানা সরাতে পদক্ষেপ নেয়নি।
এরপর ওই ১০ কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল দিয়ে তাদের তলব করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন ট্যানারি মালিক ১১ এপ্রিল হাজারীবাগে কারখানা বন্ধ এবং সাভারে সরানোর পদক্ষেপ জানিয়ে হলফনামা দিলে আদালত তাদের অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়।
৩ জন মালিক আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয়া হয়। বাকি চারজন মালিকের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। একজন বিদেশে থাকায় তাঁকে ৩ মে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।