আদালত

মওদুদের গুলশানের বাড়ির মামলার রায় প্রকাশ

মওদুদ আহমদ
মওদুদ আহমদ

রাজধানীর গুলশানে বাড়ির মালিকানা নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মামলার পূর্ণাঙ্গ ৮০ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বুধবার আপিল বিভাগের ওয়েবসাইটে দুইটি বিষয়ে দেয়া ৮০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে।

রায় প্রকাশের দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করতে পারবেন মওদুদ আহমদ।

গতকাল বিএনপির এ নেতার বিরুদ্ধে গুলশানের বাড়ি ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা বাতিল করে আপিল বিভাগ ফলে বাড়িটি হারায় তাকে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাজউক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে এ আদেশ দেয়।

এর ফলে বাড়িটি মওদুদ আহমদের ভাইয়ের নামে নামজারি করতে হবে না। ফলে ভাইয়ের নামে দখল করা বাড়িটি মওদুদকে ছাড়তে হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল।

আর মওদুদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। মওদুদ নিজেও শুনানিতে অংশ নেন।

সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের বিএনপি নেতা মওদুদকে গুলশান-২ নম্বর সেকশনের ১৫৯ নম্বর প্লটের ওই বাড়ি ছাড়তে হচ্ছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল বলেন, রাজউক এখন বাড়িটি নিজেদের তত্ত্বাবধানে নেবে।

পাশাপাশি ওই বাড়ি নিয়ে দুদকের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ আমলে নেয়াকে বৈধতা দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে মওদুদ ও তার ভাইয়ের করা আপিলও সর্বোচ্চ আদালত মঞ্জুর করেছে ফলে মামলাটি বাতিল হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

রায়ের পর টুটুল বলেন, মওদুদের ভাইয়ের নামে ওই প্লটের বায়না চুক্তিতে তারিখ দেখানো হয়েছিল ১৯৮৫ সালের ১০ অগাস্ট। কিন্তু ওই বাড়ির মালিক অস্ট্রেলীয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজ মারা যান ১৯৮৫ সালের ৩০ মার্চ। অর্থাৎ বায়নানামাটি ছিল ‘ভুয়া’।

পেছনে ফিরে দেখা এ বাড়ি নিয়ে কিছু তথ্য:

দুদকের উপ-পরিচালক হারুনুর রশীদ -গুলশান ২ এর ১৫৯ নম্বর প্লট -এক বিঘা ১৩ কাঠা জমির ওপর ওই বাড়ি অবৈধভাবে দখল ও আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর গুলশান থানায় মওদুদ ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

গত ২০১৪ সালের ২৬ মে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা এ মামলার অভিযোগপত্র দেয় ওই বছর ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক তা আমলে নেন।

অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের যে বাড়িটিতে মওদুদ আহমদ ও তার পরিবার বসবাস করছেন তার প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির কাছ থেকে এ বাড়ির মালিকানা এহসান পান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্র এহসানের স্ত্রী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামে নিবন্ধন করা হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এহসান স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়।

ওই বছর থেকেই মওদুদ পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এরপর ১৯৭৩ সালের ২ আগস্ট তারিখে তিনি ইনজে মারিয়া প্লাজের নামে একটি ‘ভুয়া’ আমমোক্তারনামা তৈরি করান এবং নিজেকে তার ভাড়াটিয়া হিসেবে দেখিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

মওদুদের রাজনৈতিক জীবন:

কবি জসীমউদ্দীনের জামাতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মপক্ষ সমর্থন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তাকে বাংলাদেশের প্রথম পোস্ট মাস্টার জেনারেল করা হয়।

অবশ্য পরে দেশের প্রথম সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যোগ দেন মওদুদ। জিয়া তাকে মন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী করেছিলেন। জিয়ার মৃত্যুর পর মওদুদ সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পাশে দাঁড়ান। এরশাদের নয় বছরের শাসনামলে তিনি মন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর মওদুদ বিএনপিতে ফেরেন এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামাত জোট সরকারে আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

দুদকের মামলার বিবরণী

দুদকের মামলায় বলা হয়, জিয়া সরকারের উপ প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে মওদুদ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে গুলশানের ওই বাড়ি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকা থেকে বাদ দেয়ার চেষ্টা করেন। এর ধারাবাহিকতায় মাত্র ১০০ টাকা মূল্য দেখিয়ে ১৯৮০ সালে প্লটটি তিনি বরাদ্দ নেন।

পরে তিনি একটি বায়নানামা হাজির করে যেখানে দেখানো হয়, ওই বাড়ির মালিক ইনজে মারিয়া প্লাজ জনৈক মহসিন দরবারকে আমমোক্তার বানিয়েছেন এবং সেই মহসিন দরবার ১৯৮৫ সালে বাড়িটি মওদুদের সহোদর ভাই মনজুর আহমদের নামে বায়না করে দিয়েছেন।

মওদুদ ওই অভিযোগ আমলে নেয়ার আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে গতবছর ২৩ জুন হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে মওদুদ আপিলের আবেদন করলে আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করে। এর ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগে মওদুদের আপিলের শুনানি হয়।

এদিকে, মওদুদের এক আবেদনে ২০১০ সালের ১২ আগস্ট হাইকোর্ট গুলশানের ওই বাড়ি তার ভাই মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন এবং ডিক্রি জারি করতে নির্দেশ দেয়।

রাজউক হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চাইলে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করে। এরপর চলতি বছর শুনানি নিয়ে আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে।

আজ- মঙ্গলবার আপিল বিভাগ দুটি বিষয়ের রায় একসঙ্গে ঘোষণা করেছে।

প্রসঙ্গত: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গুলশানে যে বাড়িটিতে বসবাস করছেন তা অবৈধভাবে দখলের অভিযোগে ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। ২০১৪ সালে এ মামলার অভিযোগ আমলে নেয় বিচারিক আদালত। এর বিরুদ্ধে মওদুদ আহমদ উচ্চ আদলতে আপিল করলে তা খারিজ করে দেয়া হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে তিনি লিভ টু আপিল করলে আপিল বিভাগ তা গ্রহণ করে। এদিকে, ২০১০ সালে মওদুদ আহমদের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তার ভাই মনজুর আহমদের নামে বাড়িটির নামজারি করার জন্য নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে রাজউক।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

আল আমিনের তালাক: সন্তান নিয়ে আদালতে স্ত্রী

অস্ত্র মামলা: জি কে শামীমসহ ৮ জনের যাবজ্জীবন

আবেদন করলে খালেদা জিয়ার আবারো মুক্তির মেয়াদ বাড়বে: আইনমন্ত্রী

রুবেল-বরকতের অর্থপাচার মামলা ফের তদন্তের নির্দেশ আদালতের

জাহালমকে পাঁচ লাখ টাকা দিলো ব্র্যাক ব্যাংক

৮৫ নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ বাতিল

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে পূর্বানুমতি বাতিলের রায় স্থগিত

ডেসটিনির চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদের জামিন

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ