রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। রোববার রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, তদন্ত শেষে তিনি নিজেই চিফ জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে আট জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—বাকিরা পলাতক।
অভিযোগপত্রের আট আসামি হল- জেএমবির রংপুর আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা (৩৩), সদস্য ইছাহাক আলী (৩৪), লিটন মিয়া (৩২), আবু সাঈদ (২৮), সাদ্দাম হোসেন (৩২), আহসান উল্লাহ আনসারী (৩১), নজরুল ইসলাম (৩২) ও সাখাওয়াত হোসেন (৩০)।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তারা হলেন: কুনিওর ব্যবসায়িক সহযোগী হুমায়ুন কবির হীরা, রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য রাশেদ-উন-নবী খান বিপ্লব, রংপুর মহানগর যুবদলের সদস্য রাজীব হাসান সুমন ওরফে মেরিল সুমন, নওশাদ হোসেন রুবেল ওরফে ব্ল্যাক রুবেল, বিজয় দাশ এবং রংপুর নগরীর শালবন মিস্ত্রিপাড়ার কাজল চন্দ্র বর্মণ ওরফে ভরসা কাজল।
পিপি নয়ন জানান, বর্তমানে এ ছয়জন রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। অভিযোগপত্রে এ ছয়জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত ছয় জনের অব্যাহতির আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
বিপ্লব বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের ভাই।
ওসি বলেন, আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক জেএমবি সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে—অভিযান চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক চারজনের মধ্যে নজরুল ইসলাম কয়েকদিন আগে রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গতবছর ৩ অক্টোবর সকালে কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে লক্ষ্য করে পর পর তিনটি গুলি করেন জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা। মোটর সাইকেলে তারা তিনজন ছিলেন। গুলি করার পর মোটর সাইকেলে করে তারা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৬৬ বছর বয়সী কুনিও।