রাজধানীর দারুসসালাম থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৮টি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।
এর মধ্যে ৫টি মামলা আমলে নেয়া হয়েছে। বাকি তিনটি মামলার বিষয়ে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর।
বুধবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করা হয়।
একই আদালত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগও আমলে নিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১০ অক্টোবর। একই মামলায় পূর্বশর্তে জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করায় গত ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়। ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী।
১০ আগস্ট নাইকো দুর্নীতির মামলাসহ মোট ১২ মামলায় হাজিরা দিতে নিম্ন আদালতে পৌঁছান খালেদা জিয়া। তার আগমন উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
এসব এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। আদালতে প্রবেশের আগে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের তল্লাশি করা হয়। এমনকি আইনজীবীদের পরিচয়পত্রও দেখাতে হয়।
এর আগে মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী মো. সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, নাইকো ও বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ ১২ মামলায় আদালতে হাজিরা দেবেন খালেদা জিয়া।
এর মধ্যে নাইকো দুর্নীতি মামলা ঢাকার বিশেষ জজ-৯ নম্বর আদালতের বিচারক মো. আমিনুল ইসলামের আদালতে, বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলার ঢাকার বিশেষ জজ-২ নম্বর আদালতের বিচারক হোসনে আরা বেগমের আদালতে এবং রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে হাজিরা দেবেন খালেদা জিয়া।
এছাড়া ২০১৫ সালে হরতাল-অবরোধে দারুসসালাম থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৮টি মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন।
একই থানায় অপর একটি নাশকতার মামলায় খালেদা জিয়া ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করবেন বলে জানান সানাউল্লাহ মিয়া।