রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে গ্রেপ্তার জামাতের ১৮ নেতাকর্মীর মধ্যে ১৬ জনকে দুই দিন আর ২ জনকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
তিন দিনের রিমান্ডে দেয়া হয়েছে তারা হলেন: বাড্ডা থানা জামাতের আমির ফখরুদ্দিন কেফায়েত উল্লাহ এবং মো. শাহীন।
শনিবার পুলিশের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম সাজেদুর রহমান এ রায় দেন। শুনানিতে আসামিদের পক্ষে রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদনও করা হয়।
গতকাল শুক্রবার রাতে ১৮ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে— এ মামলার বাদী হয়েছেন বাড্ডা থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী মাকসুদ।
মামলাটি ১৯৭৫ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় দায়ের করা হয়েছে— উল্লেখ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নেয়ার জন্য ১০ দিনের আবেদন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত ১৮ জনকে ঢাকা মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়েছে। রিমান্ড শুনানির পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে আদালত কয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
আর বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ জলিল বলেন, ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলটির ২টি শাখা: একটি গুলশানে, অন্যটি মেরুল বাড্ডায়। শাখা ২টির অধ্যক্ষ শামসুন্নাহার নিজামী।
বাড্ডা থানা শাখা জামাতের আমির ফখরুদ্দিন কেফায়েত উল্লাহ স্কুলটির ভাইস প্রিন্সিপাল বলে জানান বাড্ডা থানার এ ওসি।
এদিকে, গতকাল শুক্রবার মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টে শুক্রবার ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে অভিযান চালিয়ে জামাতের আমিরসহ ১৮ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।
পরে বাড্ডার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ জলিল বলেন, বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টর ৮ নম্বর সড়কে ২৫ নম্বর হোল্ডিংয়ে ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে জামাত-শিবিরের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছে। এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভোর থেকে অভিযান চালিয়ে বাড্ডা থানা জামাতের আমির ফখরুদ্দিন কেফায়েত উল্লাহসহ ১৮ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে জামাত-শিবিরের নেতাকর্মী, স্কুল ভবনটির মালিক, শিক্ষক ও ভাড়াটেরা রয়েছেন— বলে জানান বাড্ডার থানার এ ওসি।
এমএ জলিল আরো বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামাতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী শামছুন্নাহার নিজামী ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলটি পরিচালনা করেন। এছাড়াও জামাতে ইসলামীর মহিলা বিভাগেরও সেক্রেটারিও তিনি।
মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী শামছুন্নাহারকেও আটক করা হয়েছে কি-না?— সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শামছুন্নাহার নিজামী স্কুলের অধ্যক্ষ তবে ঘটনাস্থলে তিনি ছিলেন না।
প্রাথমিকভাবে ২২ জন পুরুষ ও ৫ জন নারীকে আটকের কথা বললেও পরে ১৮ জনকে আটকের কথা জানায় পুলিশ।
জানা গেছে, বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্টের ৮ নম্বর সড়কের ২৫ নম্বর হোল্ডিংয়ে ৬তলা বাড়ির তৃতীয় তলায় মালিক বেলাল হোসেন ও ষষ্ঠ তলায় বাড্ডা থানা জামাতের আমির ফখরুদ্দিন কেফায়েত উল্লাহ বসবাস করেন। এছাড়া বাকি ফ্লোরগুলো স্কুল ও কলেজের কাজে ব্যবহৃত হয়।