বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মওদুদ আহমেদের সময়ের আবেদনে পরিপ্রেক্ষিতে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি অষ্টমবারের মতো পেছানো হয়েছে।
রোববার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আমিনুল ইসলাম শুনানির জন্য ২ অক্টোবর নতুন দিন ঠিক করেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের আইনজীবী আইনজীবী খায়রুল কবির জানান, নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে—এ তথ্য জানিয়ে সময় চাওয়া হয়েছিল।
পরে বিচারক নতুন দিন ঠিক করেছেন বলে জানান তারা।
এ মামলার ধারাবাহিকতা:
গতবছর জুনে মামলাটি পুনরায় সচল হওয়ার পর ২৮ ডিসেম্বর এবং চলতি বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১২ এপ্রিল, ৭ জুন ও ১১ জুলাই, ১০ আগস্ট ও ১৬ আগস্ট এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছায়। জানা গেছে প্রায় সাত বছর এ মামলাটি আটকে ছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুদক। পরের বছর ৫ মে খালেদাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।
এতে অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেয়ার’ মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন।
মামলা হওয়ার পর খালেদা জিয়া উচ্চ আদালতে গেলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই দুর্নীতির এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্ট, সেই সঙ্গে দেয়া হয় রুল।
প্রায় সাত বছর পর গত বছরের শুরুতে রুল নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নেয় দুদক। রুলের ওপর শুনানি শেষে গত বছর ১৮ জুন খালেদার আবেদন খারিজ করে মামলার ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেয় হাইকোর্ট।
ওই রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী গত বছর ৩০ নভেম্বর খালেদা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।
এ মামলার বাকি আসামিরা হলে:
চার দলীয় জোট সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম) এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। এদের মধ্যে মিয়া ময়নুল হক, কাশেম শরীফ ও কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী পলাতক রয়েছেন।