একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর কমাণ্ডার মীর কাসেম আলীর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের বিষয়ে আদেশ কাল (মঙ্গলবার)।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৪টি অভিযোগের মধ্যে চট্টগ্রামের ডালিম হোটেলে অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যাসহ ১০টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর দুটি অভিযোগে আট জনকে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
২০১২ সালের ১৭ জুন মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর ১৬ মে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৪টি অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
২৬ মে অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়, এর মধ্যে দুটি অভিযোগে আট জনকে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৮টি অভিযোগে আরও ৭২ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয় এ বদর কমান্ডারকে।
এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের দীর্ঘ তেরো মাস পর এ বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি মীর কাসেমের আপিল শুনানি শুরু হয়। ৮ মার্চ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দুটি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে একটি মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে সংক্ষিপ্ত রায় দেয় আপিল বিভাগ।
গত ৬ জুন এই যুদ্ধাপরাধীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ১৯ জুন রিভিউ আবেদন করেন মীর কাসেম।
রিভিউর রায়েও সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকার আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
আর মীর কাসেমের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সর্বোচ্চ আদালত যদি মীর কাসেমকে দোষী মনে করেন তাহলেও তাকে যেন চরমদণ্ড না দেয়া হয় সেই আবেদন করা হয়েছে।
ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হলে ৭ দিনের মধ্যে এ মানবতাবিরোধী অপরাধী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন।
আর রাষ্ট্রপতি ক্ষমা না করলে সরকার যে কোনো দিন তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে।